জামালপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:
ভোটের মুখে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে ঘিরে নজিরবিহীন জনসমাগমের সাক্ষী থাকল মোহিন্দর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন মোহিন্দর ও শীতলপুর এলাকা থেকে হারালা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সোমবার প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইক র্যালি ও পদযাত্রার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালান প্রার্থী। শুরুতে কয়েকশো কর্মী-সমর্থক নিয়ে মিছিল শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা রূপ নেয় জনস্রোতে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন কর্মী-সমর্থক সরাসরি মিছিলে অংশগ্রহণ করেন, আর রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত থেকে সমর্থন জানান।
মোহিন্দরের জোড়ামন্দির থেকে শুরু হওয়া এই মোহামিছিল যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে মানুষের অংশগ্রহণ। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ। বহু মানুষ ফুল, মালা ও মিষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে প্রার্থীকে অভ্যর্থনা জানান। বিশেষ করে মহিলাদের শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো—কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, কেউ করমর্দন করেছেন, আবার কেউ প্রণাম করে আশীর্বাদ দিয়েছেন।
এই বিশাল কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাইক র্যালি, যেখানে বিপুল সংখ্যক যুবক অংশ নেন। দলীয় পতাকা হাতে, স্লোগানে মুখরিত হয়ে এগিয়ে যায় বাইকের সারি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের র্যালি শুধু শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এক কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পাড়াতাল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান উত্তম হাজরা সহ এলাকার একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব। তারা জানান, এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন কতটা মজবুত এবং মানুষের সমর্থন কতটা দৃঢ়।
মিছিলে অংশ নিয়ে ভূতনাথ মালিক বারবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। কখনও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, কখনও এগিয়ে গিয়ে করমর্দন করেন, আবার অনেকের প্রণাম গ্রহণ করে আশীর্বাদ নেন। মানুষের সঙ্গে এই সরাসরি সংযোগ তার জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যাবেলায় আয়োজিত হয় একটি পথসভা। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপ-প্রধান উত্তম হাজরা বলেন, “আজকের এই জনসমুদ্রই বলে দিচ্ছে আগামী নির্বাচনে ফলাফল কী হতে চলেছে। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে, শান্তির পক্ষে। নিজেদের ভালো রাখতে, সুরক্ষিত থাকতে ও শান্তিতে বসবাস করতে হলে ৩ নম্বর বোতাম টিপে জোড়াফুলে ভোট দিতে হবে।”
প্রার্থী ভূতনাথ মালিক তার বক্তব্যে বলেন, “এত মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে আরও দায়িত্ববান করে তুলেছে। আমি নিশ্চিত, শুধু এই অঞ্চল নয়, গোটা বিধানসভার ১৪টি অঞ্চলেই তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। মানুষের উন্নয়নের কাজই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, আর সেই উন্নয়নের ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মোহামিছিল শুধু একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনের এক বড় উদাহরণ। বিপুল জনসমাগম ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনে এই অঞ্চলটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।