জামালপুরে অন্নপূর্ণা ক্যাম্প পরিদর্শন ও নতুন বিধায়ক কার্যালয়ের উদ্বোধন, জনসংযোগে জোর বিজেপির
জামালপুর, ১ জুন: পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভা এলাকায় সোমবার একাধিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকলেন বিধায়ক অরুণ হালদার। একদিকে বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত অন্নপূর্ণা ক্যাম্প পরিদর্শন, অন্যদিকে নতুন বিধায়ক কার্যালয়ের উদ্বোধন— দুটি কর্মসূচিকেই ঘিরে উৎসাহ ছিল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।
জামালপুর-১ নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে চৌবেড়িয়া বাজার, ধুলগ্রাম, বিপত্তারিণী মন্দির চত্বর, আরাসুল, বাদলপুর, নূতনগ্রাম-সহ একাধিক এলাকায় অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ক্যাম্পগুলিতে ফর্ম পূরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
এই ক্যাম্পগুলি পরিদর্শন করেন জামালপুরের বিধায়ক অরুণ হালদার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল। বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে তাঁরা পরিষেবা গ্রহণ করতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং আয়োজকদের কাছ থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
এই প্রসঙ্গে মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল জানান, অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রত্যেক যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাঁদের ফর্ম পূরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে সহায়তা করছেন কর্মীরা। ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনমুখী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে একই দিনে জামালপুরে নতুন বিধায়ক কার্যালয়েরও শুভ উদ্বোধন করা হয়। বিধায়ক অরুণ হালদার ফিতে কেটে কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু, বিধানসভার ইনচার্জ দেবাশীষ সরকার, বিধানসভার কনভেনার তপন বাছার, মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল-সহ দলের একাধিক নেতা, কর্মী ও সমর্থক।
উদ্বোধন উপলক্ষে কার্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আবহ দেখা যায়। ফুল, বেলুন ও বিভিন্ন সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয় গোটা এলাকা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী পর্ব সম্পন্ন হয়।
বিধায়ক অরুণ হালদার বলেন, নতুন এই কার্যালয় সাধারণ মানুষের জন্য সর্বদা খোলা থাকবে। এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের সমস্যা, অভিযোগ এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সরাসরি এখানে জানাতে পারবেন। জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে এই কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু বলেন, জনগণ এবং জনপ্রতিনিধির মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই কার্যালয় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
বিধানসভার ইনচার্জ দেবাশীষ সরকার জানান, ভবিষ্যতে এই কার্যালয়ে নিয়মিত জনসুনানি, সাংগঠনিক বৈঠক এবং উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কনভেনার তপন বাছারও নতুন কার্যালয়ের মাধ্যমে জনসেবার কাজ আরও গতিশীল হবে বলে মত প্রকাশ করেন।
একই দিনে অন্নপূর্ণা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং নতুন বিধায়ক কার্যালয়ের উদ্বোধনকে ঘিরে জামালপুরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এই দুই কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
স্থানীয় মানুষের আশা, নতুন বিধায়ক কার্যালয় এবং জনমুখী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যকলাপ আগামী দিনে আরও গতি পাবে।