জামালপুরে তৃণমূলের জনজোয়ার, মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে শক্তি প্রদর্শন—ভূতনাথ মালিকের জয় ‘সময়ের অপেক্ষা’
জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্র যেন এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী থাকল। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে আয়োজিত বিশাল র্যালি কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে গোটা রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিল। এই র্যালির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, যাঁর সংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বে আজকের এই জনসমাবেশ এক নতুন মাত্রা পেল।
হালারা বিপত্তারিণী তলা থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি জামালপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল এতটাই ছিল যে, র্যালির গতি বারবার থেমে যায়। খোলা হুডের গাড়িতে প্রার্থী ভূতনাথ মালিক এবং ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খানকে নিয়ে র্যালি এগোতে থাকলেও ভিড়ের চাপে গাড়ি কার্যত এগোতেই পারছিল না। হাজার হাজার মানুষ হাত নেড়ে, স্লোগান দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানায়।
এই বিশাল র্যালিতে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বীরভূমের সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য যেমন মানুষের আগ্রহ ছিল তেমনই ছিল ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের প্রতি আবেগ। তবে পুরো আয়োজনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন মেহেমুদ খান, যিনি এই জনসমাবেশকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
র্যালির ব্যাপ্তি ছিল নজিরবিহীন। যখন র্যালির সম্মুখভাগ জামালপুর থানামোড়ে পৌঁছায়, তখনও এর শেষ প্রান্ত ছিল অনেক দূরে পুলমাথা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এত বড় মিছিল জামালপুর আগে কখনও দেখেনি। জনতার এই বিপুল উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অঞ্চলে কতটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও ছিল কড়া ব্যবস্থা। জামালপুর থানার ওসি কৃপা সিন্ধু ঘোষ নিজে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হলেও গোটা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
এই র্যালির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিরোধী শিবির থেকে তৃণমূলে যোগদান। বিজেপি মহিলা মোর্চার ১১টি পরিবার এবং সি আই টি ইউ-র মেমারি জোনাল কমিটির সদস্য চন্দ্রনাথ মুখার্জীর সঙ্গে প্রায় ২০টি পরিবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এই যোগদান কর্মসূচি তৃণমূলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাংসদ শতাব্দী রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন তা করে দেখান। রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং সেই উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে হলে ভূতনাথ মালিককে জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, আজকের এই জনসমুদ্রই প্রমাণ করে দিচ্ছে জামালপুরে কী ফল হতে চলেছে।
এদিনের সভায় সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান। তিনি বলেন, “আজকে সিপিএম বা বিজেপি থেকে মানুষ তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে—এর কারণ একটাই, বিজেপির নানা চক্রান্তে মানুষ অতিষ্ঠ। ‘এস আই আর’-এর নামে যে রাজনীতি চলছে, তা মানুষ মেনে নিচ্ছে না। তাই তারা তৃণমূলের পাশে দাঁড়াচ্ছে।”
মেহেমুদ খান আরও দাবি করেন, “আজকের এই র্যালিতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। এটা শুধু একটি মিছিল নয়, এটা মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিতে চায়, বিভাজনের রাজনীতি নয়।”
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, “জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন আজ আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মীসভা করে আমরা মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছি। তার ফল আজকের এই জনসমাবেশে দেখা গেল।”
প্রার্থী ভূতনাথ মালিকও এই বিপুল সমর্থনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “দল আমার উপর যে আস্থা রেখেছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আজ এত মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন—তাঁদের আমি নতমস্তকে প্রণাম জানাই। তাঁদের আশীর্বাদেই আমি জয়লাভ করব।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। তাঁর লক্ষ্য হবে জামালপুরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই র্যালি শুধু একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং একটি শক্তির প্রদর্শন। বিশেষ করে মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে সংগঠনের যে দৃঢ়তা দেখা গেল, তা আগামী নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
জামালপুরে আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দিল যে, তৃণমূল কংগ্রেস এখানে শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি শক্তিশালী জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ভিড়ের পরিমাণ, মানুষের উচ্ছ্বাস এবং বিরোধী শিবির থেকে যোগদানের ঘটনা—সব মিলিয়ে এই র্যালি আগামী নির্বাচনের আগে এক বড় বার্তা দিয়ে গেল।
সবশেষে বলা যায়, জামালপুরের এই ঐতিহাসিক র্যালি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে এক শক্তিশালী ইঙ্গিত। আর ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে এই জনজোয়ার প্রমাণ করে দিচ্ছে—ভূতনাথ মালিকের জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।