জামালপুরে তৃণমূল প্রার্থীর জোরকদমে প্রচার, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে নিয়ে জোরকদমে প্রচার শুরু হয়েছে। ঈদের পর থেকেই ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক কর্মী বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে দল। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁন সহ ব্লকের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
আজ সকালেই প্রথম কর্মসূচি হিসেবে জৌগ্রাম অঞ্চলে পৌঁছান প্রার্থী ভূতনাথ মালিক ও ব্লক নেতৃত্ব। সেখানে কর্মীদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী ভূতনাথ মালিক, ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁন, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ভট্টাচার্য, অঞ্চল সভাপতি মৃদুল কান্তি মণ্ডল, প্রধান মল্লিকা মণ্ডল, উপপ্রধান শাজাহান মণ্ডল, সোমনাথ চ্যাটার্জী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। প্রার্থী ও নেতৃত্বকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
বৈঠকে ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁন কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই বিধানসভা নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের পক্ষ থেকে আমাদের দায়িত্ব অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দাবির ভিত্তিতে দল এই এলাকার ভূমিপুত্র ভূতনাথ মালিককে প্রার্থী করেছে। তাই তাঁকে রেকর্ড ভোটে জয়ী করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, সকল কর্মীকে একজোট হয়ে মাঠে নামতে হবে এবং দলের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের পরিচিতি গোটা জামালপুর জুড়ে সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে কাজ করে আসছেন। ফলে কর্মীদের মধ্যে তাঁর প্রতি এক বিশেষ আস্থা ও সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কর্মী বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচারে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর প্রার্থী ও নেতৃত্ব আবুঝহাটি ১ ও ২ নম্বর অঞ্চলেও যান এবং সেখানে কর্মী বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অঞ্চল সভাপতি তরুণ কুমার ঘোষ ও রমেন্দ্রনাথ কোনার, প্রধান রমজান শাহ ও ঝর্না দাস, শ্যামল চ্যাটার্জী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সেখানেও কর্মীরা একসঙ্গে শপথ নেন যে, তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে ভোটের ময়দানে নেমে প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।
প্রার্থী ভূতনাথ মালিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দল আমার উপর আস্থা রেখে আমাকে প্রার্থী করেছে। এজন্য আমি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি আশাবাদী, জামালপুরের মানুষ আমাকে সমর্থন করবেন।” তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় বিরোধীদের তেমন কোনো প্রভাব নেই এবং রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতোই জামালপুরেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেস জামালপুরে সংগঠনকে শক্তিশালী করে প্রার্থীকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে মরিয়া। ধারাবাহিক কর্মী বৈঠক, নেতৃত্বের সক্রিয় উপস্থিতি এবং কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এই নির্বাচনে দলের পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।