logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

সম্প্রীতির ঈদে মাতলো জামালপুরবাসী, মিলনমেলার বার্তা ছড়ালো সর্বত্র

জামালপুর, পূর্ব বর্ধমান:
সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উৎসবে মেতে উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর। খুশি, সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্ববোধের এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে গোটা এলাকা। সকাল থেকেই বিভিন্ন ঈদগাহে ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। নতুন পোশাক, হাসিমুখ আর ধর্মীয় আবেগে ভরপুর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন।
জামালপুরের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ঈদগাহগুলিতে সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে বত্রিশবিঘা ঈদগাহে গ্রামের প্রায় সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ছোট থেকে বড়, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই একসাথে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন—এই দৃশ্য যেনো প্রকৃত অর্থেই সাম্যের বার্তা তুলে ধরে।
ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হয়। স্বেচ্ছাসেবীরাও বিভিন্ন স্থানে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনো সমস্যা না হয়।
আজকের এই পবিত্র দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের জামালপুর ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খাঁন নিজেও অংশ নেন ঈদের নামাজে। তিনি তাঁর ছেলে ও জামাইকে সঙ্গে নিয়ে বত্রিশবিঘা ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একসারিতে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করার এই দৃশ্য অনেকের কাছেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নামাজ শেষে মেহেমুদ খাঁন উপস্থিত সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “ঈদ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করে। আমরা সবাই যেন একসাথে মিলেমিশে শান্তিতে থাকতে পারি, সেটাই এই দিনের মূল বার্তা।” পাশাপাশি তিনি সকলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে, জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ভূতনাথ মালিকও আজকের এই শুভ দিনে এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “ঈদ আমাদের সকলের উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এই আনন্দে শামিল হই। এই সম্প্রীতির পরিবেশই আমাদের সমাজকে আরও শক্তিশালী করে।”
ঈদের দিনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র রমজান মাসে একমাস রোজা রাখার পর আজকের দিনে তাঁরা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করেন, যাতে তাঁদের সমস্ত ইবাদত কবুল হয়। এই দিনেই তাঁরা নতুন করে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।
সকালবেলায় নামাজ আদায়ের পর শুরু হয় একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর্ব। “ঈদ মোবারক” বলে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন সকলে। এই দৃশ্য শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানবিক সম্পর্কের গভীরতাকেও প্রকাশ করে।
জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, নামাজ শেষে মানুষজন একে অপরের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয়েছে সেমাই, ফিরনি, কাবাবসহ নানা রকমের সুস্বাদু খাবার। অতিথিদের আপ্যায়নে কোথাও কোনো খামতি রাখা হয়নি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই উৎসবে শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষও অংশগ্রহণ করেছেন। অনেকেই তাঁদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদের বাড়িতে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই মিলনমেলা প্রমাণ করে দেয়, জামালপুরে এখনও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।
এছাড়াও, ছোট ছোট শিশুদের মধ্যে ছিল বিশেষ উৎসাহ। নতুন জামা পরে, হাতে বেলুন ও খেলনা নিয়ে তারা আনন্দে মেতে ওঠে। অনেক জায়গায় দেখা যায়, বাচ্চারাও বড়দের সঙ্গে নামাজে অংশ নিচ্ছে, যা তাদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির পরিচয় গড়ে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছরই ঈদ উৎসব এখানে অত্যন্ত আনন্দ ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। তবে এবারের উৎসবে যেনো আনন্দের মাত্রা একটু বেশি। দীর্ঘদিন পর এমনভাবে সবাই একত্রিত হয়ে উৎসব পালন করতে পেরে খুশি সকলেই।
জামালপুরের প্রবীণ এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, এখানে ঈদ মানেই সবাই একসাথে আনন্দ করা। হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে এই উৎসবকে আরও সুন্দর করে তোলে।”
সার্বিকভাবে বলা যায়, এবারের ঈদ উৎসব জামালপুরে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি পরিণত হয়েছে সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে। মানুষের মুখে হাসি, হৃদয়ে আনন্দ আর সমাজে ঐক্যের বার্তা—এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই জামালপুরে উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদ।
এই উৎসব আবারও প্রমাণ করে দিল, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি থাকলেও একসাথে মিলেমিশে থাকা সম্ভব। ঈদের এই আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সারা বাংলায়, সারা দেশে—এই কামনাই করছেন

5
826 views

Comment