logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

জামালপুরে ৫.৫ কিমি রাস্তার উদ্বোধন, খরচ ২ কোটি ৬৮ লক্ষের বেশি – গ্রামবাসীর মধ্যে খুশির হাওয়া

জামালপুর, পূর্ব বর্ধমান:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের বেড়ুগ্রাম অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তার উদ্বোধন করা হলো। চক্ষণযাদি থেকে বলাগড় পর্যন্ত প্রায় ৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা। রাস্তা নির্মাণের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই নতুন রাস্তার উদ্বোধন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের জামালপুর ব্লক সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খাঁন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ভূতনাথ মালিক, অঞ্চল সভাপতি সাহাবুদ্দিন শেখ ওরফে দানি, উপপ্রধান রিয়া বাগ, মহিলা নেত্রী মিঠু পাত্র সহ এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ।
মেধাবী ছাত্রের হাতেই উদ্বোধন
এই অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ দিক ছিল স্থানীয় একটি মেধাবী ছাত্রকে দিয়ে রাস্তার উদ্বোধন করানো। স্থানীয় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জসিম খান-কে ডেকে এনে তার হাত দিয়েই ফিতা কেটে এই রাস্তার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
মেহেমুদ খাঁন বলেন, “আজকের এই ছোট ছোট বাচ্চারাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা চাই আগামী প্রজন্মের হাতে আরও সুন্দর ও উন্নত সমাজ তুলে দিতে।” তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন এবং বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন।
পথশ্রী প্রকল্পে ব্যাপক উন্নয়ন
মেহেমুদ খাঁন জানান, রাজ্য সরকারের পথশ্রী প্রকল্প সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে বহু রাস্তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে গ্রামের মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক সুবিধা হয়েছে।
গ্রামের কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন এবং ব্যবসায়ীরাও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নও দ্রুত হয়।”
যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ভূতনাথ মালিক বলেন, এই রাস্তা তৈরি হওয়ার ফলে বলাগড় থেকে চক্ষণযাদি পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। আগে এই এলাকায় যাতায়াত করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো।
বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তার কারণে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। এখন পাকা রাস্তা হওয়ার ফলে ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।
স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া
রাস্তা উদ্বোধনের পর এলাকায় খুশির পরিবেশ দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তা নির্মাণের দাবি ছিল। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আগে আমাদের খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হতো। এখন এই রাস্তা তৈরি হওয়ায় আমরা অনেক সুবিধা পাব।”
অন্য একজন কৃষক বলেন, “আমাদের ফসল বাজারে নিয়ে যেতে অনেক সমস্যা হতো। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় দ্রুত বাজারে যেতে পারবো।”
ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নের আশা
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মেহেমুদ খাঁন বলেন, আগামী দিনেও এই অঞ্চলে আরও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। রাস্তা, পানীয় জল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে এই ধরনের আরও প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার বার্তা
মেহেমুদ খাঁন আরও বলেন, রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়ে আগামী দিনেও এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখবেন।
গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন অধ্যায়
এই নতুন রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে জামালপুরের গ্রামীণ উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
স্থানীয় মানুষের মতে, এই রাস্তা শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়াবে না, বরং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পথও খুলে দেবে।

5
316 views

Comment