জামালপুরে জনজোয়ার, মেহমুদ খানের নেতৃত্বে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তায় উন্নয়ন ও কৃষকই মূল ইস্যু
জামালপুর, পূর্ব বর্ধমান | বিশেষ প্রতিবেদন
পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিশাল জনসভাকে কেন্দ্র করে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন ডা. শর্মিলা সরকার, গার্গী নাহা, সন্দীপ বসু, সেরাজ ঘোষ, তারক কুণ্ডু, জাকির হোসেন, নীলা মুন্সি, বাপ্পাদিত্য ব্যানার্জি, অতনু নায়ক, সুবাস মণ্ডল, শেখ মহম্মদ ইসমাইল, দেবু টুডু সহ, উত্তম হাজরা, কল্পনা শাট প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তবে এই সভার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠেন স্থানীয় সংগঠনের মুখ, জামালপুর ব্লক সভাপতি মেহমুদ খান, যার নেতৃত্বে গোটা আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সফল হয়।
সভা শুরুর অনেক আগেই এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে সভাস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। এই বিপুল জনসমাগম সংগঠিত করার ক্ষেত্রে মেহমুদ খানের নেতৃত্বে ব্লক সংগঠনের পরিকল্পনা ও পরিশ্রম ছিল স্পষ্ট। গ্রামে গ্রামে প্রচার, কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং জনসংযোগ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই উপস্থিত সকলকে প্রণাম জানান এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা দেন। তিনি বলেন, পূর্ব বর্ধমান জেলা বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে যে জয় এসেছে, তাতে এই জেলার ভূমিকা ছিল অগ্রণী।
তিনি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, জামালপুর এলাকায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ হয়েছে এবং মোট ৪০৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি ও সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সোলার লাইট ও হাই মাস্ট লাইট বসানো হয়েছে এবং একাধিক কমিউনিটি হল নির্মাণ করা হয়েছে। এই উন্নয়নকে তিনি রাজ্যের সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ বলে উল্লেখ করেন।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬ সাল থেকে আলাদা কৃষি বাজেট চালু করা হবে এবং রাজ্যে ৫০টি নতুন বহুমুখী হিমঘর তৈরি করা হবে। বিশেষ করে আলু চাষিদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত দুই বছরে কৃষকদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সার এবং অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, নাইলনের বস্তার দাম ৯ টাকা থেকে বেড়ে ২৫-২৮ টাকা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, রাজনীতি কখনো ধর্মের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়, বরং উন্নয়ন ও কাজের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তিনি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, উন্নয়নের হিসাব নিয়ে যে কোনো সময় আলোচনা করতে তিনি প্রস্তুত।
সভায় তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁকে একজন তরুণ ও কর্মঠ নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভূতনাথ মালিক মানুষের সঙ্গে সবসময় যুক্ত থাকেন এবং আগামী দিনে জামালপুরের উন্নয়ন আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি জনগণের কাছে আবেদন জানান, তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে।
এই জনসভায় মেহমুদ খানের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্লক সভাপতি হিসেবে তিনি শুধু সংগঠন পরিচালনাই করেন না, বরং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখেন। নিয়মিত গ্রামে গিয়ে মানুষের সমস্যা শোনা এবং তার সমাধানের চেষ্টা করা—এইভাবেই তিনি নিজেকে একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্থানীয় মানুষের মতে, তাঁর সক্রিয় উপস্থিতির কারণেই জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন এত শক্তিশালী।
সভায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথাও উঠে আসে, যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার, পেনশন এবং কৃষি সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সভা আসন্ন নির্বাচনের আগে একটি বড় বার্তা দিয়েছে—তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনের দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং স্থানীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত সক্রিয়। উন্নয়ন এবং কৃষককেন্দ্রিক রাজনীতিই আগামী দিনের মূল ইস্যু হতে চলেছে।
সব মিলিয়ে, জামালপুরের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং শক্তি প্রদর্শন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মেহমুদ খানের নেতৃত্বে স্থানীয় সংগঠন যেভাবে এই সভাকে সফল করেছে, তা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নিঃসন্দেহে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন দেখার বিষয়, এই জনসমর্থন ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।