logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

মানুষ হোক বা পশু, পিতা হিসেবে আজ দুজনেই অসহায় সন্তানের অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ

ছবিটি শুধু একজন বৃদ্ধ মানুষ ও একটি ষাঁড়ের নয়; এটি সমাজের এক গভীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একদিকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বসে থাকা এক অসহায় বৃদ্ধ, অন্যদিকে তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা বিশালাকৃতির একটি ষাঁড়। দুজনের অবস্থান যেন এক নীরব বার্তা বহন করছে—বয়স বাড়লে মানুষ হোক বা পশু, অনেক সময় তাদের মূল্যায়ন কমে যায়।
বর্তমান সময়ে আমরা সামাজিক মাধ্যমে ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে উপলক্ষে অসংখ্য ছবি, শুভেচ্ছা ও আবেগঘন পোস্ট দেখতে পাই। বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই ভালোবাসা কি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সন্তানরা নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি আগের মতো সময় বা যত্ন দিতে পারেন না। কেউ কেউ একাকীত্বে দিন কাটান, আবার কেউ অর্থনৈতিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করেন। একইভাবে, কৃষকের সংসারে বছরের পর বছর শ্রম দেওয়া গরু বা ষাঁড়ও বয়স বাড়লে অবহেলার শিকার হয়।
সমাজের জন্য বড় প্রশ্ন
আমরা কি সত্যিই আমাদের বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি?
শুধু সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করলেই কি সন্তানের কর্তব্য শেষ হয়ে যায়?
আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে আমাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে, তা কি আমাদের বর্তমান আচরণের প্রতিফলন নয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
উপসংহার
এই ছবিটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো এক দিনের অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রতিদিনের আচরণ, যত্ন ও সম্মানের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আজ আমরা সন্তান, কাল আমরা বাবা-মা হব। তাই আজ যারা আমাদের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়।
“যখন সন্তান ছিলাম, বাবা-মা ছিলেন আমাদের আশ্রয়।
যখন বাবা-মা বৃদ্ধ হন, তখন তাদের আশ্রয় হওয়াটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।” 🌿🙏

14
476 views

Comment