বৃদ্ধ হলে আশ্রয় কোথায়? রাস্তার ধারে একা দাঁড়িয়ে ষাঁড়, উঠল সমাজের প্রতি প্রশ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা:
একসময় পরিবারের সম্পদ, কৃষকের সহায়ক কিংবা গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে যত্নে বড় হয়ে ওঠা পশুরাও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় অবহেলার শিকার হয়। সম্প্রতি এমনই এক দৃশ্য নজরে এসেছে, যেখানে একটি বৃদ্ধ ষাঁড়কে রাস্তার ধারে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ছবিটি শুধু একটি পশুর নয়, বরং সমাজের একটি গভীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। অনেকের মতে, মানুষ হোক বা পশু—যখন কর্মক্ষমতা কমে যায়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও যত্ন কমে আসে। ফলে একাকীত্ব, অবহেলা এবং অনিশ্চয়তা তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, গবাদি পশু দীর্ঘদিন পরিবারের উপকার করলেও বার্ধক্যে পৌঁছানোর পর অনেক সময় তাদের যথাযথ পরিচর্যা হয় না। ফলে তারা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে এবং খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে ভোগে।
সমাজের কাছে প্রশ্ন
এই দৃশ্য যেন আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরে—
“যারা একসময় আমাদের জন্য কাজ করেছে, তাদের বার্ধক্যে আমাদের দায়িত্ব কতটা?”
মানবিকতা শুধু মানুষের প্রতি নয়, পশু-পাখির প্রতিও সমানভাবে প্রযোজ্য। সমাজের সচেতন নাগরিকদের মতে, বৃদ্ধ গবাদি পশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাদ্য এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
বিশেষ মন্তব্য
"বৃদ্ধ হয়ে গেলে বাবা-মায়ের স্থান যদি বৃদ্ধাশ্রমে হয়, তবে অনেক পশুর স্থান হয়ে যায় রাস্তা। কিন্তু অবহেলার যন্ত্রণা উভয়ের কাছেই সমান কষ্টের। মানবিক সমাজ গড়তে হলে মানুষ ও পশু—উভয়ের প্রতিই আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।"