কলকাতা ওলটপালট করে চলছে নতুন শর্ট ফিল্মের শুটিং! অভিনব সাইকোলজিক্যাল ড্রামা নিয়ে আসছে 'ছায়া-ছবি'
কলকাতা, ৩ জুন ২০২৬: তিলোত্তমার বুকেই এখন দিন-রাত এক করে চলছে এক নতুন বাংলা শর্ট ফিল্মের শুটিং। ছবির নাম— 'ছায়া-ছবি'। কলকাতার পরিচিত ব্যস্ত রাস্তা, অলিগলি আর চেনা চত্বরকে ব্যাকড্রপ করে তৈরি হচ্ছে এই সাইকোলজিক্যাল ড্রামা। এক তরুণ স্ট্রিট ফটোগ্রাফারের জীবন কীভাবে একটা অদ্ভুত ঘটনার টানাপোড়েনে বদলে যায়, সেই গল্পই পর্দায় ফুটিয়ে তুলছেন নির্মাতারা।
ক্যামেরার পিছনের জীবন বনাম বাস্তব
ছবির মূল চরিত্র অর্জুন (২২)। পেশায় সে একজন স্ট্রিট ফটোগ্রাফার, কিন্তু ইদানীং জীবনের প্রতি সে ভীষণভাবে ক্লান্ত ও বীতশ্রদ্ধ। একটা ক্যামেরা লেন্স আর ল্যাপটপের স্ক্রিনের বাইরে তার নিজস্ব কোনো জগৎ নেই। চারপাশের বাস্তব দুনিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেওয়া অর্জুনের এই যান্ত্রিক জীবনে আচমকাই ঝড় তোলে একটি রহস্যময় ঘটনা।
সে খেয়াল করে, কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তোলা তার প্রত্যেকটি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি অদ্ভুত, রহস্যময়ী মেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, ছবির ওই মেয়েটি সোজা তাকিয়ে আছে অর্জুনের ক্যামেরার লেন্সের দিকে!
ময়দানের সূর্যাস্ত এবং এক চরম সত্য
শহরের বুকে তোলা সব ছবিতে এই একই মেয়ের উপস্থিতি অর্জুনকে এক মানসিক ঘোরের মধ্যে ঠেলে দেয়। মেয়েটিকে খুঁজে বের করার এক মরিয়া ও উন্মাদনায় ভরা তাগিদ তৈরি হয় তার মধ্যে। এই রুদ্ধশ্বাস খোঁজ শেষ পর্যন্ত অর্জুনকে নিয়ে যায় সূর্যাস্তকালীন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ময়দানে। সেখানে শেষমেশ মুখোমুখি হয় তারা।
তবে গল্পে আসল চমক এখানেই— কোনো অলৌকিক বা ভূতুড়ে আতঙ্ক নয়, মেয়েটি অর্জুনের সামনে তুলে ধরে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য। মেয়েটি আসলে অন্য কেউ নয়, অর্জুনের অবহেলিত জীবনেরই এক জীবন্ত রূপ। ক্যামেরার আড়ালে লুকিয়ে থেকে অর্জুন যে মুহূর্তগুলোকে বাঁচতে ভুলে গিয়েছিল, যে স্মৃতিগুলোকে অবহেলা করেছিল— এই রহস্যময়ী মেয়েটি আসলে তারই প্রতিচ্ছবি।
বাস্তবের এই চরম শিক্ষা দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বাতাসে মিলিয়ে যায় সে। আর ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় অর্জুনের এক নতুন জন্ম। ক্যামেরাটাকে আর দুনিয়া থেকে লুকিয়ে থাকার ঢাল না বানিয়ে, এবার সে প্রস্তুত বাস্তবের মুখোমুখি হতে এবং জীবনকে নতুন করে উপভোগ করতে।
শহরের বিভিন্ন লোকেশনে জোরকদমে চলছে এই ছবির কাজ। মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন আর কলকাতার চেনা নস্টালজিয়া মিলিয়ে 'ছায়া-ছবি' দর্শকদের মনে কতটা দাগ কাটতে পারে, এখন সেটাই দেখার।