logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

বিশেষ প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গে হকার সমস্যা (১৯৭৭-২০২৬) রেলের জমি দখল থেকে অপারেশন সানশাইন হয়ে আজকের উচ্ছেদ অভিযান

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় ‘হকার সমস্যা’। গত পাঁচ দশকে বাম আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই ইস্যুটি বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে। একদিকে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি, অন্যদিকে নাগরিক নিরাপত্তা ও আধুনিকীকরণ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে রাজ্য দেখেছে ১৯৯৬ সালের ‘অপারেশন সানশাইন’-এর মতো কঠোর উচ্ছেদ অভিযান, আবার দেখেছে রাজনৈতিক ভোটব্যাঙ্কের চাদরে ঢাকা পড়া এক সুবিশাল সমান্তরাল অর্থনীতি। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আজ ফের বড়সড় প্রশ্নের মুখে হকারদের ভবিষ্যৎ এবং রেল ও শহরের পরিকাঠামো।
​১. রেলের জমি ও স্টেশনে হকার রাজ: জবরদখল ও ৩০-৪০ বছরের অর্থনীতি (১৯৭৭-২০১১)
​রেলওয়ে অ্যাক্ট ১৯৮৯-এর সেকশন ১৪৭ অনুযায়ী রেলের জমিতে অননুমোদিত প্রবেশ ও দখল সম্পূর্ণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও ২০১৮ সালের সিএজি (CAG) রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় রেলের ৭৮৩ হেক্টর জমি বেদখল হয়ে রয়েছে, যার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (২৪২ হেক্টর)।
​জবরদখলের মেকানিজম ও তোলাবাজির চক্র:
২০১৫ সালের আরপিএফ (RPF) হাওড়া ডিভিশনের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোনো রসিদ ছাড়াই প্রতি দোকান থেকে মাসে ২০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত তোলা আদায় করা হয়। এই বিপুল অঙ্কের টাকার ভাগ বাটোয়ারা হয় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে:
​স্থানীয় ক্লাব ও রাজনৈতিক কর্মী: ৪০%
​জিআরপিএফ (GRPF)-এর একাংশ: ৩০%
​রেল কর্মচারী: ২০%
​অন্যান্য ক্লাব/সংগঠন: ১০%
​সংসদীয় কমিটির ২০২১ সালের রিপোর্ট বলছে, "স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও রেলের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই দখলদারি বাড়ে। পাশাপাশি রেলের জমি রক্ষা বিভাগেও প্রায় ৬৮% পদ খালি।" রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই হকাররা বড় ভোটব্যাঙ্ক হওয়ায় উচ্ছেদের নোটিস দিলেই শুরু হয় মিছিল-মিটিং। ফলে ১৯৮০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে স্টেশন প্রতি হকারের সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০০-এ।
​বিশাল সমান্তরাল অর্থনীতি:
ন্যাশনাল হকার ফেডারেশনের ২০২২ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে রেল এলাকায় প্রায় ৪.৮ লক্ষ হকার রয়েছেন। পরিবার পিছু ৪ জন করে সদস্য ধরলে প্রায় ১৯.২ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। পরিসংখ্যান বলছে:
​হাওড়া স্টেশন: ১৯৮৫ সালে হকার ছিল ৮০০, ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬,২০০।
​শিয়ালদহ স্টেশন: ১৯৯০ সালে ছিল ১,২০০, ২০২৩ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৭,৪০০-এ।
​খড়গপুর, আসানসোল, বর্ধমান: প্রতি স্টেশনে বর্তমানে ৮০০ থেকে ১,৫০০ হকার ব্যবসা করছেন।
​২. অপারেশন সানশাইন (১৯৯৬-৯৭): কেন এবং কী হয়েছিল?
​১৯৯৬ সালে কলকাতায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ‘Beautification Drive’ বা শহর সুন্দরায়নের উদ্যোগ নেয়। তৎকালীন পুরমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, "ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে শহরে বিনিয়োগ আসবে না।"
​২৪-২৬ নভেম্বর ১৯৯৬-এর সেই তিন দিন:
কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভা (KMC) যৌথভাবে ৩ দিনে প্রায় ৭২,০০০ হকার উচ্ছেদ করে। গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, ধর্মতলার মতো ব্যস্ততম এলাকার ফুটপাত রাতারাতি ফাঁকা হয়ে যায়। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ডি সি ভোরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, পথচারীদের জায়গা দেওয়া, যানজট কমানো এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে শহরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই এই পদক্ষেপ।
​কেন ব্যর্থ হয়েছিল অপারেশন সানশাইন?
​পুনর্বাসনের অভাব: ২০১৩ সালের ‘সুধীর মাধুর মামলা’য় সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করে, ১৯৯৬ সালে ৭২,০০০ হকার উচ্ছেদ হলেও পুনর্বাসন পেয়েছিল মাত্র ৪,০০০ জন। ফলে বাকিরা এক সপ্তাহের মধ্যে আবার ফুটপাতে ফিরে আসে।
​রাজনৈতিক চাপ: ১৯৯৮ সালের ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি (EPW)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হকারদের অধিকার রক্ষায় মহাকরণ অভিযান ও তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলনের জেরে ৩ মাসের মধ্যে পরিস্থিতি পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়।
​আইনি শূন্যতা: সেই সময়ে ‘স্ট্রিট ভেন্ডরস অ্যাক্ট’ ছিল না (যা আসে ২০১৪ সালে)। ফলে উচ্ছেদ বৈধ হলেও পুনর্বাসন বাধ্যতামূলক ছিল না।
কলকাতা পুরসভার ২০২০ সালের টাউন ভেন্ডিং কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের সেই ৭২,০০০ হকারের সংখ্যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৭ লক্ষে।
​৩. রেল ও যাত্রীদের ক্ষতি: নিরাপত্তা ও আধুনিকীকরণে বাধা (২০২৩-২০ Calibri)
​বর্তমান সময়ে স্টেশনে হকারদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতির কারণে সাধারণ যাত্রী ও রেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
​নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা:
रेलवे बोर्ड এবং সিআরএস (CRS) রিপোর্ট ২০২৩ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হাওড়া ও শিয়ালদহে ১৪২ জন যাত্রী লাইনে পড়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৬০% দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল প্ল্যাটফর্মে হাঁটার জায়গা না থাকা এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ধাক্কাধাক্কি। এছাড়া রয়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি। ২০২২ সালের ফায়ার সার্ভিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, হকারদের স্টোভ ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে হাওড়া স্টেশনে ৩ বছরে ১৭ বার আগুন লেগেছে। ২০১৯ সালে ১ নং প্ল্যাটফর্মের আগুনে ৩ জনের মৃত্যুও ঘটে।
​রাজস্ব ও আধুনিকীকরণে ধাক্কা:
​আর্থিক ক্ষতি: সিএজি (CAG) ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, হকারদের অবৈধ বিদ্যুৎ ও জল ব্যবহারের কারণে পূর্ব রেলের বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।
​অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প: এই প্রকল্পের অধীনে বাংলায় ৯,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ থমকে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হাওড়া স্টেশনের ১৫ নং প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ১ বছর দেরি হয়েছে শুধু ৪০০ হকারের দখলের কারণে।
​বিনিয়োগের অভাব: রেল মন্ত্রকের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, পিপিপি (PPP) মডেলে স্টেশন উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাগুলো বাংলায় আসতে চাইছে না। দিল্লি বা গুজরাটে উচ্ছেদের পর ৮,২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এলেও বাংলায় তা শূন্য। এর ফলে প্রায় ১.১৭ লক্ষ প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান আটকে রয়েছে।
​৪. কেন এখন উচ্ছেদ ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি? (৫টি মূল তথ্য)
কারণ তথ্য ও বাস্তবতা সূত্র
১. আইনি বাধ্যবাধকতা: রেলের জমি কেন্দ্রের সম্পত্তি। Public Premises Act ১৯৭১ অনুযায়ী বেদখলকারীকে সরানো বাধ্যতামূলক। সুপ্রিম কোর্ট (২০২১),আলমিত্রা প্যাটেল মামলা
২. যাত্রী সুরক্ষা: ৫ বছরে ১৪২ জন যাত্রী প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের কারণে লাইনে পড়ে মৃত CRS রিপোর্ট, ২০২৩
৩. আধুনিকীকরণ: বন্দে ভারত বা বুলেট ট্রেনের মতো আধুনিক ট্রেনের জন্য ২৪ কোচের দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, যা হকার থাকলে অসম্ভব। DPR মুম্বাই-আমেদাবাদ HSR, ২০১৭
৪. কর্মসংস্থান: আধুনিকীকরণ থমকে থাকায় বাংলায় ১.১৭ লক্ষ যুবকের চাকরি আটকে রয়েছে। রেল মন্ত্রক, ২০২৪
৫. বৈধ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি: রেলের বৈধ স্টলগুলো মাসে ৮,০০০-৪০,০০০ টাকা লাইসেন্স ফি দিলেও অবৈধ হকাররা দেয় শূন্য। পূর্ব রেলে ১,২০০ বৈধ স্টলের বিপরীতে অবৈধ হকার ৪.৮ লক্ষ। পূর্ব রেল, ২০২৩
۵. মানবিক দিক: উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসন — সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা
​আদালত ও আইন স্পষ্ট জানিয়েছে, হকারদের উচ্ছেদ করার আগে তাদের রুটি-রুজির কথা ভাবা প্রয়োজন। ২০১৩ সালের সুধীর মাধুর বনাম এমসিডি (MCD) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন দেয়:
১. হকারদের জীবিকার অধিকার রয়েছে, তবে ফুটপাত প্রথমত পথচারীদের অধিকার।
২. প্রতিটি শহরে ‘টাউন ভেন্ডিং কমিটি’ গঠন করতে হবে।
৩. ‘হকার জোন’ এবং ‘নো-ভেন্ডিং জোন’ (যেমন: রেল স্টেশন, হাসপাতাল গেট) চিহ্নিত করতে হবে।
৪. ২০১৪ সালের আগের হকারদের সার্ভে করে লাইসেন্স দিতে হবে এবং উচ্ছেদের আগে বিকল্প জায়গা দিতে হবে।
​যদিও পশ্চিমবঙ্গে ‘স্ট্রিট ভেন্ডরস অ্যাক্ট ২০১৪’ লাগু হয়েছে ২০১৮ সালে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত ধীর। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১,০০০ জনসংখ্যায় ২৫ জন হকারকে লাইসেন্স দেওয়া যায় (কলকাতায় প্রায় ৪৫,০০০)। কিন্তু ২০২৩ সালের কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ৭৫,০০০ হকারের সার্ভে হলেও লাইসেন্স পেয়েছেন মাত্র ৮,২০০ জন, এবং এর মধ্যে রেল এলাকা অন্তর্ভুক্ত নয়।
​৬. মানবিক পুনর্বাসনের ৫টি বাস্তবসম্মত মডেল
​হকারদের কর্মহীন না করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, তার কিছু কার্যকর মডেল নিচে দেওয়া হলো:
​হকার মার্কেট (রেল ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে): স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে পুরসভা বা রেলের জমিতে (যেমন হাওড়া বা বেলুড়ের রেলের পরিত্যক্ত গুদাম) শেড ও আলোর ব্যবস্থা করে লটারি মারফত দোকান বরাদ্দ করা। (যেমনটা হয়েছে দিল্লি ও আমেদাবাদে)।
​ভেন্ডিং জোন (নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক): ফুটপাতে হলুদ রঙ করে নির্দিষ্ট সাইজের (৬x৪ ফুট) বক্স কেটে দেওয়া। সকাল ৬-১০ এবং বিকেল ৪-৯টা পর্যন্ত ব্যবসার অনুমতি এবং মাসে ৩০০ টাকা ফি ধার্য করা (ভুবনেশ্বর মডেল)।
​রাত্রিকালীন বাজার (Night Market): প্ল্যাটফর্মের ভেতরে কোনো দোকান নয়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মের বাইরে নির্দিষ্ট বাজারে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া (মুম্বাই দাদর মডেল)।
​PM-SVANidhi লোন ও ডিজিটালাইজেশন: হকারদের লাইসেন্স দিয়ে কেন্দ্রের ১০,০০০ টাকার সহজ ঋণ এবং ৭% সুদের ভর্তুকির আওতায় আনা।
​স্কিল ট্রেনিং ও বিকল্প চাকরি: ৩৫-৫০ বছর বয়সী হকারদের রেল বা পুরসভার গ্রুপ-ডি বা সাফাই কর্মী হিসেবে নিয়োগ এবং তরুণদের সিকিউরিটি বা ডেলিভারি বয়-এর ট্রেনিং দেওয়া।
​অর্থসংস্থান কোথায়?
রেলের স্টেশন পুনর্নির্মাণ বাজেটের (৯,৮০০ কোটি) মাত্র ২% (১৯৬ কোটি টাকা) হকার পুনর্বাসনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া কেন্দ্রের PM-SVANidhi, রাজ্যের Urban Livelihood ফান্ড এবং বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোর সিএসআর (CSR) তহবিল থেকে এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব। টাটা গ্রুপ যেমন দুর্গাপুরে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টি দোকান বানিয়ে দিয়েছে।
​৭. সমাধানের ৭ ধাপের তথ্যভিত্তিক রোডম্যাপ
[ধাপ ১: যৌথ সার্ভে (RPF + পুরসভা + ইউনিয়ন)]
│ (৩ মাস)

[ধাপ ২: নো-ভেন্ডিং জোন চিহ্নিতকরণ (স্টেশন গেট/FOB থেকে ১৫০ মি)]
│ (১ মাস)

[ধাপ ৩: বিকল্প হকার জোন তৈরি (২০০ মি দূরে জল ও আলোসহ)]
│ (২ মাস)

[ধাপ ৪: টাউন ভেন্ডিং কমিটির মাধ্যমে লটারি ও আইডি কার্ড বণ্টন]
│ (১ মাস)

[ধাপ ৫: ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা (PM-SVANidhi লোন)]
│ (৩ মাস)

[ধাপ ৬: নো-ভেন্ডিং জোন থেকে নিয়মতান্ত্রিক অপসারণ ও জরিমানা]
│ (১ মাস)

[ধাপ ৭: ৬ মাস পর পর রিভিউ ও বিকল্প স্কিল ট্রেনিং]
ব্যয়ভার: রাজ্যের মোট ৪.৮ লক্ষ হকারের মধ্যে ৫০% (২.৪ লক্ষ)-কে পুনর্বাসন দিতে দোকান পিছু ২৫,০০০ টাকা ধরলে মোট খরচ ৬০০ কোটি টাকা। কেন্দ্র, রাজ্য ও রেল প্রত্যেকে ২০০ কোটি টাকা করে দিলে আগামী ৩ বছরের মধ্যে এই পুনর্বাসন সম্পন্ন করা সম্ভব।
​উপসংহার
​পশ্চিমবঙ্গের হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল লাঠি ঘুরিয়ে বা রাতারাতি উচ্ছেদ করে সম্ভব নয়। কারণ এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে লাখ লাখ মানুষের জীবন ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন। কলকাতা হাইকোর্টও ২০২২ সালে স্পষ্ট জানিয়েছে, "উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন প্রয়োজন।"
​পথ একটাই—‘আইন ও মানবিকতার সহাবস্থান’। দিল্লি, আমেদাবাদ বা ভুবনেশ্বর যা করে দেখিয়েছে, বাংলাকেও সেই পথেই হাঁটতে হবে। স্টেশন চত্বর হবে হকারমুক্ত এবং নিরাপদ, কিন্তু হকাররা যেন কর্মহীন না হন। হকাররা পাবেন আইনি স্বীকৃতি ও তোলাবাজমুক্ত নিশ্চিত ব্যবসা, যাত্রীরা পাবেন হাঁটার জায়গা, আর রাজ্য ও রেল পাবে আধুনিক ও নিরাপদ পরিকাঠামো। উচ্ছেদের বদলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই হোক লক্ষ্য।

40
1337 views

Comment