'রোগী দিবস'-এ চিকিৎসায় গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব PBT; ডব্লিউবিএমসি ভাঙার দাবিতে রাজ্যপালকে স্মারকলিপি
কলকাতা, ২৮ মে, ২০২৬: প্রতি বছরের মতো এবারও ২৮ মে দিনটিকে দেশজুড়ে 'রোগী দিবস' (রোগী দিবস) হিসেবে পালন করল 'পিপল ফর বেটার ট্রিটমেন্ট' (PBT)। রোগীদের অধিকার রক্ষা এবং চিকিৎসায় গাফিলতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের আজকের দিনেই কলকাতার বেশ কয়েকজন 'বিশিষ্ট' চিকিৎসকের চরম গাফিলতির কারণে প্রাণ হারিয়েছিলেন পিবিটি-র সভাপতি তথা চিকিৎসক কুণাল সাহার স্ত্রী অনুরাধা সাহা। ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এটিকেই সবচেয়ে বড় গাফিলতির মামলা হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই বিশেষ দিনে চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও রোগীদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে পিবিটি-র পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে:
১. এসএসকেএম হাসপাতালে দুর্নীতি ও সিবিআই তদন্তের নোটিশ
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মেয়েকে কোনো উপযুক্ত যোগ্যতা ছাড়াই এসএসকেএম হাসপাতালে অধ্যাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় (WPAP/408/2024) কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই সিবিআই (CBI) তদন্তের আর্জি জানিয়ে নোটিশ জারি করেছে।
২. শীর্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু
বিধাননগর আদালতে পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিল (WBMC)-এর ৬ জন শীর্ষ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাস, ডা. অভীক দে, ডা. নির্মল মাজি, ডা. এস.এন. রায় এবং ডা. কে. মাহাতো (মামলা নং ৪৩৫৫/২০২৪)। নির্বাচন চলাকালীন ডা. কুণাল সাহার ওপর হামলা এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগে এই বিচার শুরু হলো।
৩. বেল ভিউ ক্লিনিক ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বড় রায়
চলতি বছরের গত ৬ মে (২০২৬) রাজ্য কমিশনের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে কলকাতার বেল ভিউ ক্লিনিক এবং প্রবীণ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিরঞ্জন ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে ৪৭ লক্ষ টাকার জরিমানার একটি বড় রায় ঘোষণা করা হয়েছে (CC/504/2017)। পিবিটি এবং ডা. কুণাল সাহার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
৪. বিনামূল্যে আইনি লড়াই
চিকিৎসায় গাফিলতির শিকার হওয়া দেশের অসংখ্য ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পিবিটি। কোনো রকম 'মেডিকোলিগ্যাল' ফি বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ না করেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেশের বিভিন্ন আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।
৫. 'অবৈধ' মেডিকেল কাউন্সিল ভেঙে দেওয়ার দাবি
আজ রোগী দিবসের দিনই পিবিটি-র পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছে একটি স্মারকলিপি (মেমোরেন্ডাম) জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী (W.P.A. No. 8140/2022) রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল সম্পূর্ণ বেআইনি ও আইনবিরুদ্ধভাবে কাজ চালাচ্ছিল। বর্তমানে কাউন্সিলে নিয়োজিত সিংহভাগ সদস্যই নির্বাচিত নন, বরং তৎকালীন শাসক দল তৃণমূলের (TMC) ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁদের 'অ্যাড-হক' বা অস্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
রাজ্যপালের কাছে পাঠানো মেমোরেন্ডামে ডা. কুণাল সাহা দাবি জানিয়েছেন, চিকিৎসায় গাফিলতির মতো গুরুতর অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে এই অবৈধ 'অ্যাড-হক' সদস্যরা জড়িত। ফলস্বরূপ, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর থেকে ভরসা উঠে যাচ্ছে। এই ব্যাপক দুর্নীতি রুখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে বর্তমান 'অবৈধ' পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিল (WBMC) ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন করে নির্বাচনের মাধ্যমে স্বচ্ছ কাউন্সিল গঠন করার আর্জি জানিয়েছে PBT।