logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

অন্ধকার থেকে আলোর পথে: ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন লড়াই ও রূপান্তরের এক অনুপ্রেরণীয় গল্প

কলকাতা: জীবনের কঠিন বাস্তবতা, পারিবারিক অশান্তি এবং মানসিক অস্থিরতার বেড়াজাল কাটিয়ে শান্তির সন্ধান পাওয়ার এক হৃদয়স্পর্শী গল্প ভাগ করে নিলেন কলকাতার বাসিন্দা শ্রুতি জুনেজা। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি তুলে ধরেছেন কীভাবে অনিশ্চয়তার জীবন থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে তিনি আজ এক নতুন জীবনের দিশা পেয়েছেন।
​সংগ্রামের শৈশব ও যৌবন
শ্রুতি জানান, তিনি একটি রক্ষণশীল মারওয়ারি যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে আর্থিক সমস্যা এবং অশান্তির কারণে তিনি সবসময় এক ধরনের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। এই পরিবেশের প্রভাব পড়েছিল তার মনের ওপর। পরবর্তীতে ২০-২২ বছর বয়সে পরিবারের অমতে আন্তঃধর্মীয় বিয়ে (পাঞ্জাবি পরিবারে) করতে গিয়েও তাকে দীর্ঘ সংগ্রামের সম্মুখীন হতে হয়। বিয়ের পরেও নতুন পরিবারে মানিয়ে নেওয়া এবং সামাজিক জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই অব্যাহত ছিল।
​মানসিক সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়
নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং সামাজিক জীবনে শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না মেলায় শ্রুতির মনের মধ্যে বাড়তে থাকে চরম বিরক্তি ও অস্থিরতা। তিনি জানান, সেই সময় মনের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা ও দমবন্ধ করা অনুভূতি কাজ করত। জীবনের অর্থ খুঁজে না পেয়ে একসময় তিনি এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে জীবন সম্পর্কেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। মানসিক শান্তি পেতে তিনি বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, গুরুদুয়ারা এবং গির্জায় গিয়েছেন, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেছেন, কিন্তু শান্তি অধরাই থেকে গিয়েছিল।
​এক নতুন মোড়
শ্রুতির জীবনে পরিবর্তনের সূচনা হয় যখন এক বন্ধু তাকে 'মাস্টারজি' (Masterji) নামক একজনের কিছু লেকচার শোনার পরামর্শ দেন। প্রথমে অনিচ্ছা থাকলেও, পরবর্তীতে তিনি টানা এক মাস সেই লেকচারগুলো শোনেন। শ্রুতির কথায়, সেই শিক্ষা শোনার পর তার মনে হলো যেন মাথার ওপর থেকে ১০০ কেজির বোঝা নেমে গেল। তিনি দাবি করেন, এই শিক্ষা তার জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।
​পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা
গত ৫-৬ বছর ধরে তিনি নিয়মিত এই শিক্ষা অনুসরণ করছেন। তার মতে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলেও পরিস্থিতির প্রতি তার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বা ‘গ্রহণযোগ্যতা’ (acceptance) তৈরি হয়েছে। ফলে বাইরের অশান্তি তাকে আর বিচলিত করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, কোনো বিনিময় ছাড়াই এই জ্ঞান লাভ করা সম্ভব এবং যারা মানসিক অস্থিরতা, উদ্বেগ বা ডিপ্রেশনে ভুগছেন, তারা একবার এই লেকচারগুলো শুনে দেখতে পারেন।
​শ্রুতির এই জীবনযুদ্ধের কাহিনী অনেকের জন্যই হয়তো আশার আলো হয়ে উঠবে, যারা প্রতিনিয়ত জীবনের লড়াইয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

25
1231 views

Comment