logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

Dream As Big As you Can dream And Anything Is Possible!

*সল্টলেক স্টেডিয়াম-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস*
১. নাম ও পরিচয়
সল্টলেক স্টেডিয়াম-এর অফিসিয়াল নাম ‘বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন’ বা VYBK। কলকাতার বিধাননগর, সেক্টর ৩-এ অবস্থিত। ফুটবল মাঠ হিসেবেই সবচেয়ে বিখ্যাত। একসময় এটাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম।
২. কেন তৈরি হল?
আশির দশকে কলকাতায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ইডেন গার্ডেন্স ও মোহনবাগান গ্রাউন্ডে ডার্বি হলে ৮০-৮৫ হাজার দর্শকও জায়গা পেত না। টিকিটের হাহাকার, মারামারি লেগেই থাকত। তখনকার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, একটা বিশাল স্টেডিয়াম বানাতে হবে যেখানে লাখ লাখ মানুষ একসাথে খেলা দেখতে পারবে।
৩. নির্মাণ ও উদ্বোধন
১৯৮২ সালে কাজ শুরু হয়। পুরো প্রজেক্ট দেখাশোনা করে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট। ডিজাইন করে দুই আর্কিটেক্ট ফার্ম — M/S. Ballardie, Thompson & Matthews এবং M/S. H.K. Sen & Associates। প্রায় ৫ বছরে কাজ শেষ হয়। খরচ হয়েছিল তখনকার হিসেবে প্রায় ₹৩০ কোটি।
২৫ জানুয়ারি ১৯৮৪ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেন। প্রথম ম্যাচ হয় জওহরলাল নেহরু আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ — ভারত বনাম উরুগুয়ে।
৪. ধারণক্ষমতা: বিশ্বরেকর্ড
শুরুতে অফিসিয়াল সিটিং ক্যাপাসিটি ছিল ১,২০,০০০। কিন্তু দাঁড়িয়ে, গ্যালারির সিঁড়িতে বসে ১,৩১,০০০+ দর্শকও খেলা দেখেছে। ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনাল — ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ডার্বিতে ১,৩১,৭৮১ জন ঢুকেছিল। এটা আজও এশিয়ার যেকোনো স্পোর্টস ইভেন্টে সর্বোচ্চ উপস্থিতি। তখন VYBK ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম।
৫. বড় বড় ইভেন্ট
- *১৯৮৬*: নেহরু কাপের ফাইনাল
- *১৯৮৭*: সাফ গেমসের ফুটবল
- *১৯৯৭*: ফেডারেশন কাপ ডার্বি — বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিক
- *২০১১*: আর্জেন্টিনা বনাম ভেনেজুয়েলা ফ্রেন্ডলি। মেসি, আগুয়েরো কলকাতায় খেলে গেছেন
- *২০১৭*: FIFA U-17 বিশ্বকাপ ফাইনাল। ইংল্যান্ড বনাম স্পেন। ৬৬,৬৮৪ দর্শক ছিল
- *ISL*: ATK মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল-এর হোম গ্রাউন্ড
শুধু ফুটবল না, এখানে অ্যাথলেটিক্স, কবাডি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়েছে।
৬. সংস্কার ও আধুনিকীকরণ
২০১৭ U-17 বিশ্বকাপের আগে ₹৭০০ কোটি খরচে বিশাল রেনোভেশন হয়। ফিফার নিয়ম মেনে বাকেট সিট বসানো হয়, ফলে ক্যাপাসিটি কমে দাঁড়ায় ৬৬,০০০। নতুন LED ফ্লাডলাইট, ড্রেসিং রুম, মিডিয়া সেন্টার, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক বদলানো হয়। ছাদ লাগানো হয় VIP গ্যালারিতে। এখন এটা ভারতের একমাত্র ‘Elite Category 2’ ফুটবল স্টেডিয়াম।
৭. গুরুত্ব ও আবেগ
সল্টলেক স্টেডিয়াম শুধু ইট-সিমেন্ট না, কলকাতার ফুটবল আবেগের প্রতীক। মোহন-ইস্ট ডার্বির গর্জন, মেসিকে সামনে থেকে দেখা, বাইচুং-সুনীলদের গোল — সব ইতিহাসের সাক্ষী। ৪০ বছর ধরে এটা বাংলার ফুটবলের ‘মক্কা’।
৮. বর্তমান অবস্থা
এখন ISL, ডুরান্ড কাপ, জাতীয় দলের ম্যাচ হয়। AIFF-এর অনেক ক্যাম্পও এখানে বসে। রক্ষণাবেক্ষণ করে রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ দপ্তর।
এককথায়: ১৯৮৪ সালে ১.২ লাখ ক্যাপাসিটি নিয়ে যাত্রা শুরু, মেসি-মারাদোনা থেকে U-17 বিশ্বকাপ — সল্টলেক স্টেডিয়াম ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় থিয়েটার। এখন ৬৬ হাজার হলেও, গ্যালারির আওয়াজে প্রতিপক্ষ আজও কাঁপে।

1
0 views

Comment