স্যাটেলাইট যোগাযোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড নিয়ে বাড়ছে প্রযুক্তিগত গুরুত্ব
কলকাতা, ১৮ মে: আধুনিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মোবাইল যোগাযোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, টেলিভিশন সম্প্রচার, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণাসব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাটেলাইট যোগাযোগে সাধারণত L, S, C, X, Ku, K এবং Ka ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি ব্যান্ডের নিজস্ব ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ ও ব্যবহার ক্ষেত্র রয়েছে।
বিভিন্ন স্যাটেলাইট ব্যান্ড ও তাদের ব্যবহার:
L Band (12 GHz): মোবাইল স্যাটেলাইট সার্ভিস (MSS), GPS এবং স্যাটেলাইট ফোনে ব্যবহৃত হয়।
S Band (24 GHz): আবহাওয়া রাডার, বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
C Band (48 GHz): টিভি সম্প্রচার ও Fixed Satellite Service (FSS)-এ অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারী বৃষ্টিতেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সিগন্যাল প্রদান করে।
X Band (812.5 GHz): সামরিক যোগাযোগ, আবহাওয়া উপগ্রহ ও রাডার ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
Ku Band (12.518 GHz): DTH টিভি, ব্রডকাস্টিং এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত।
K Band (1826.5 GHz): বিশেষ রাডার ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
Ka Band (26.540 GHz): উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
প্রযুক্তিবিদদের বক্তব্য, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির ব্যান্ডে বেশি ডেটা পরিবহন সম্ভব হলেও বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব বেশি পড়ে। অন্যদিকে নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির ব্যান্ড দীর্ঘ দূরত্বে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বর্তমানে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও রিমোট সেন্সিং ক্ষেত্রেও বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ড যেমন Visible, Infrared, SWIR ও Thermal Infrared Band গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, বনাঞ্চল রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।