চিকিৎসকদের পেছনের অনুপ্রেরণার শক্তিকে ও সমাজের প্রতিভাময়ী নারীদের সম্মান জানাল মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস
কলকাতা, ১৬ই মে ২০২৬: শৈশবের অসুস্থতার সময় কাঁপতে থাকা হাত শক্ত করে ধরে রাখা থেকে শুরু করে দীর্ঘ অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের পথচলায় নিরন্তর সাহস জোগানোএকজন মা-ই সন্তানের জীবনের প্রথম সেবাদাত্রী, প্রথম শিক্ষক এবং অনেক সময় প্রথম অনুপ্রেরণা। একজন চিকিৎসক রোগীকে সুস্থ করে তোলা, ওষুধ লিখে দেওয়া বা অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার করার শিক্ষা পাওয়ার বহু আগেই, তাঁর মা নিঃশব্দে গড়ে তোলেন সহমর্মিতা, ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং অন্যের জন্য নিঃস্বার্থভাবে যত্ন নেওয়ার মূল্যবোধ। এই অমূল্য সম্পর্ককে উদযাপন করতে এবং সন্তানদের লালনপালনের পাশাপাশি সমাজের বাঁধাধরা ধারণা ভেঙে এগিয়ে চলা নারীদের সম্মান জানাতে মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস আজ আয়োজন করেছিল এক বিশেষ মাতৃদিবস উদযাপন অনুষ্ঠান।
"প্রতিটি চিকিৎসকের জীবনের প্রথম নিরাময়দাত্রী মায়েদের সম্মান"
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথি ড. নন্দিনী ভৌমিক, প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃত গবেষক। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা প্রতিমাশিল্পী চায়না পাল, বাসচালক প্রতিমা পোদ্দার এবং পিঙ্ক ক্যাব চালক মানসী মুখাযাঁরা সমাজের প্রচলিত পেশার গণ্ডি ভেঙে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করার পাশাপাশি আদর্শ মায়ের ভূমিকা পালন করে সকলকে অনুপ্রাণিত করেছেন। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আজ এই গৌরবময় অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
চিকিৎসকদের আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও মায়েদের সংবর্ধনা
এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাসের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মায়েরা উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের আজ সশ্রদ্ধ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
ডা. পূজা আগরওয়াল কনসালট্যান্ট, সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট ক্যান্সার সার্জারি)
ডা. শাম্বভী সেনগুপ্ত দত্ত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইএনটি
ডা. নীলাদ্রি কোনার কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন
ডা. সৌপ্তিক গঙ্গোপাধ্যায় কনসালট্যান্ট, অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি
এবং ডা. সায়ন দাস সিনিয়র কনসালট্যান্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি
চিকিৎসকদের মানবিক ও সহমর্মী হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে মায়েদের নীরব ত্যাগ, অনুপ্রেরণা এবং অবিচল সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে চিকিৎসকেরাও তাঁদের জীবনের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন, যেখানে উঠে আসে কীভাবে তাঁদের মায়েরা কঠোর পড়াশোনার দিনগুলোতে পাশে থেকেছেন এবং জীবনে সহানুভূতি, নিয়মানুবর্তিতা, সাহস ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন।
"একজন মায়ের ভালোবাসা মানুষের জীবনে সবচেয়ে নির্মল এবং নিঃস্বার্থ অনুভূতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে মায়েরা আমাদের রক্ষাকবচ, শিক্ষক, মানসিক ভরসা এবং সবচেয়ে বড় সমর্থন হয়ে থাকেন। আজ চিকিৎসকদের তাঁদের মায়েদের সম্মান জানাতে দেখে ভীষণ আবেগপ্রবণ ও অনুপ্রাণিত হয়েছি, কারণ প্রতিটি সফল মানুষের পেছনে এমন একজন নারী থাকেন, যাঁর শক্তি, ধৈর্য ও ত্যাগ অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়।"
ড. নন্দিনী ভৌমিক (প্রধান অতিথি)
স্বাস্থ্যপরিষেবার মানবিক দিক
এই হৃদয়স্পর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল আবারও স্বাস্থ্যপরিষেবার মানবিক দিকটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। চিকিৎসকদের জীবনের পেছনে থাকা মায়েদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে হাসপাতালটি সহমর্মিতা, কৃতজ্ঞতা এবং সমাজের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ গড়ে তোলার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে আরও একবার তুলে ধরেছে। সমস্ত মায়েরা মিলে আজ একটি বিশেষ ব্যানার উন্মোচন করেন, যেখানে লেখা ছিল"Celebrating HER, who cares for all. Happy Mother's Day."