logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

No woman should be made to fear that she was not enough!(Annapurna Bhandar2026)!

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১. প্রকল্পের পটভূমি
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি তাদের ইস্তেহারে মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নামে নতুন মাসিক ভাতা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেয়। ৯ মে ২০২৬-এ প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর ১১ মে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১ জুন ২০২৬ থেকে প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন।
এটি মূলত তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর বদলে বা বড় সংস্করণ হিসেবে আনা হয়েছে।
২. মূল সুবিধা ও পরিমাণ
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রতি মাসে 3,000 টাকা দেওয়া হবে। আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সাধারণ মহিলারা 1,500 এবং SC/ST মহিলারা 1,700 পেতেন। নতুন প্রকল্পে টাকার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ।
এছাড়া ১ জুন ২০২৬ থেকে রাজ্য সরকারের বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত চালু হয়েছে। পরিবহন দপ্তর পিঙ্ক টিকিট বা জিরো-ফেয়ার মডেল চালুর কথা ভাবছে।
৩. কারা পাবেন: যোগ্যতার শর্ত
- আবেদনকারীকে মহিলা হতে হবে
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- বয়স ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে
- নিম্ন আয়ের পরিবার বা আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (EWS)-ভুক্ত হতে হবে
- আধার, ভোটার আইডি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ২.২ কোটি উপভোক্তাকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তর করা হবে। তবে SIR-এ যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, যারা মারা গেছেন বা ভুয়ো উপভোক্তা, তারা বাদ যাবেন।
৪. আবেদন পদ্ধতি
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল হবে যাতে কম শিক্ষিত মহিলারাও সহজে আবেদন করতে পারেন। আধার ও মোবাইল OTP, রেশন কার্ড নম্বর, ব্যাংক পাসবুক, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট লাগবে। অনলাইনের পাশাপাশি BDO অফিস বা সরকারি ক্যাম্পে অফলাইন ফর্ম জমা দেওয়ার সুবিধাও থাকবে। তবে ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল পোর্টাল চালু হয়নি।
৫. লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে পার্থক্য
বিষয়লক্ষ্মীর ভাণ্ডারঅন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
মাসিক ভাতাসাধারণ 1,500; SC/ST 1,700সকল যোগ্য মহিলা 3,000
অতিরিক্ত সুবিধানেইসরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত
আবেদনঅফলাইনঅনলাইন পোর্টাল
৬. বর্তমান অবস্থা
১১ মে ২০২৬-এ প্রকল্প ঘোষণা হলেও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা আবেদন লিঙ্ক প্রকাশ হয়নি। ১ জুন ২০২৬ থেকে প্রথম কিস্তি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী সহ পুরনো প্রকল্প চালু থাকবে বলে সরকার জানিয়েছে।
৭. নাম বিভ্রান্তি
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নামে কেন্দ্রের NSAP-এর অধীনে ৬৫+ দুঃস্থ প্রবীণদের জন্য ১০ কেজি বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার প্রকল্পও আছে। সেটি ২০০০ সালে চালু হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রকল্পটি সম্পূর্ণ আলাদা, শুধু মহিলাদের নগদ ভাতা-ভিত্তিক।
সারকথা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বিজেপি সরকারের ফ্ল্যাগশিপ মহিলা কল্যাণ প্রকল্প। 3,000 মাসিক ভাতা ও বিনামূল্যে বাসযাত্রার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নই এর মূল লক্ষ্য।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প: আরও বিস্তারিত তথ্য
১. প্রকল্প বাস্তবায়নের টাইমলাইন
- ৯ মে ২০২৬: বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ।
- ১১ মে ২০২৬: প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১ জুন থেকে প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন।
- ১ জুন ২০২৬: প্রথম কিস্তি DBT-র মাধ্যমে ব্যাংকে ঢোকার লক্ষ্য। একই দিন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের ফ্রি যাত্রা শুরু।
২. উপভোক্তা যাচাই ও বাদ পড়ার শর্ত
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ২.২ কোটি উপভোক্তার তালিকা নতুন করে যাচাই হবে। বাদ পড়বেন:
- SIR-এ ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম কাটা গেছে।
- মৃত ব্যক্তি যাদের নামে এখনও টাকা যাচ্ছিল।
- যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে মামলা চলছে বা স্থগিত আছে।
- ভুয়ো আধার, একাধিক অ্যাকাউন্ট, বা EWS শর্ত পূরণ না করা পরিবার।
৩. আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতোই আধার, ভোটার কার্ড, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, ব্যাংক পাসবুক লাগবে। নতুনভাবে আয়ের প্রমাণপত্র বা EWS সার্টিফিকেট চাওয়া হতে পারে, কারণ শর্তে নিম্ন আয়ের পরিবার উল্লেখ আছে। আবেদন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে হবে যাতে কম শিক্ষিত মহিলারাও করতে পারেন।
৪. আর্থিক দিক ও বাজেট
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বছরে প্রায় 48,000 কোটি খরচ হত। 3,000 করে দিলে ২ কোটি উপভোক্তা ধরলে বছরে 72,000 কোটি লাগবে। সরকারি বাসে ফ্রি যাত্রার জন্য অতিরিক্ত 2,000-2,500 কোটি সাবসিডি লাগতে পারে। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও-এর মতো স্কিমও রাজ্যে চালু থাকবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
৫. পরিবহন সুবিধার বিস্তারিত
১ জুন থেকে WBTC, NBSTC, SBSTC-র সব রুটে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। কন্ডাক্টর জিরো-ফেয়ার টিকিট ইস্যু করবেন। ভবিষ্যতে পিঙ্ক স্মার্ট কার্ড চালুর পরিকল্পনা আছে। কলকাতা মেট্রো বা বেসরকারি বাস এই সুবিধার আওতায় নেই।
৬. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২১-এ তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ভোটে বড় ফ্যাক্টর ছিল। বিজেপি ২০২৬-এর ভোটে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-কে প্রধান হাতিয়ার করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ প্রচারে বারবার 3,000-এর প্রতিশ্রুতি দেন। বিজেপি একে মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল হিসেবে তুলে ধরছে।
৭. পুরনো অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সঙ্গে পার্থক্য
কেন্দ্রের NSAP-এর অধীনে ২০০০ সাল থেকে অন্নপূর্ণা নামে ৬৫+ প্রবীণদের মাসে ১০ কেজি বিনামূল্যে চাল দেওয়া হয়। রাজ্যের নতুন প্রকল্পের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। নাম এক হলেও উদ্দেশ্য, উপভোক্তা ও সুবিধা সম্পূর্ণ আলাদা।
৮. সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ
- আর্থিক চাপ: বছরে 70,000+ কোটির বোঝা রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি বাড়াতে পারে।
- বাস্তবায়ন: ১ জুনের মধ্যে ২ কোটি অ্যাকাউন্ট যাচাই ও DBT সেটআপ বড় চ্যালেঞ্জ।
- বাদ পড়ার আশঙ্কা: SIR-এর কারণে অনেক প্রকৃত গরিব মহিলা বাদ পড়তে পারেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
- পোর্টাল: ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত আবেদনের সরকারি ওয়েবসাইট চালু হয়নি।
৯. পরবর্তী ধাপ
সরকার জানিয়েছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে গাইডলাইন, হেল্পলাইন নম্বর ও আবেদন পোর্টাল প্রকাশ করা হবে। জেলা BDO, পৌরসভা ও ডুয়ার্সের চা-বাগানে বিশেষ ক্যাম্প করে ফর্ম ফিলআপ করানো হবে। প্রথম কিস্তি পেতে আধার-ব্যাংক লিঙ্ক ও e-KYC বাধ্যতামূলক।
সংক্ষেপে: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার শুধু ভাতা নয়, বিজেপির নারী-কেন্দ্রিক শাসন-এর প্রধান প্রতীক। 3,000 নগদ ও ফ্রি বাসযাত্রা দিয়ে গ্রামীণ ও শহুরে গরিব মহিলাদের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। বাস্তবায়ন কতটা মসৃণ হয়, সেটাই এখন দেখার।

2
199 views

Comment