logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

FunThings Happen When You Earn dollers, Live On Pesos And Compansate In Rupees!

*ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাস: রুপ্য থেকে রুপি*
১. প্রাচীন যুগ: পাঞ্চ-মার্কড কয়েন থেকে সোনার মোহর
ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাস বিশ্বের প্রাচীনতম মুদ্রা ব্যবস্থার মধ্যে একটি। খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে মহাজনপদ আমলে প্রথম পাঞ্চ-মার্কড রৌপ্য মুদ্রা চালু হয়, যাকে বলা হত পুরাণ, পণ বা কার্ষাপণ। গান্ধার, মগধ, শাক্য, কুরু রাজ্যগুলো নিজেদের চিহ্ন দিয়ে মুদ্রা ছাপত - সৌরাষ্ট্রে কুঁজওয়ালা ষাঁড়, দক্ষিণ পাঞ্চালে স্বস্তিকা। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পাণিনি রূপ্য শব্দটি ব্যবহার করেন, যার অর্থ ছাপ দেওয়া রৌপ্য। মৌর্য যুগে তামা, সোনা ও রুপোর পাঞ্চ-মার্কড কয়েন চলে। গুপ্ত যুগকে স্বর্ণযুগ বলা হয় কারণ এই সময় প্রচুর সোনার মোহর তৈরি হয়।
২. মধ্যযুগ: টঙ্কা থেকে রুপিয়া
দ্বাদশ শতকে তুর্কি সুলতানরা দিল্লি দখলের পর ইসলামিক ক্যালিগ্রাফিযুক্ত মুদ্রা চালু করেন। রৌপ্য মুদ্রাকে টঙ্কা ও তামার মুদ্রাকে জিতল বলা হত। ১৫৪০-৪৫ সালে শের শাহ সুরি ১৭৮ গ্রেন ওজনের রৌপ্য মুদ্রা চালু করেন, যার নাম দেন রুপিয়া। এই রুপিয়া থেকেই আজকের রুপি শব্দটি এসেছে। মুঘল, মারাঠা ও ব্রিটিশ আমলেও এই রুপিয়া চলতে থাকে। আকবর সোনার মোহর, রুপোর রুপিয়া ও তামার দাম চালু করেন।
৩. ব্রিটিশ আমল: কাগজের নোট ও মানকীকরণ*
১৭৭০-১৮৩২ সালে ব্যাংক অফ হিন্দোস্তান প্রথম কাগজের রুপি ছাপে, তারপর জেনারেল ব্যাংক অফ বেঙ্গল ও বেঙ্গল ব্যাংক। ১৮৩৫ সালের Coinage Act-এর মাধ্যমে ব্রিটিশরা সারা ভারতে একই রকম মুদ্রা চালু করে। তখন ১ রুপি = ১৬ আনা = ৬৪ পয়সা = ১৯২ পাই ছিল। ১৮৬১ সালের Paper Currency Act-এ সরকার নোট ছাপার একচেটিয়া অধিকার নেয়। ১৮৭০-এর India Council Bill-এর ফলে রুপির দাম রুপোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
৪. RBI ও স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগ
১ এপ্রিল ১৯৩৫-এ রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নোট ছাপার দায়িত্ব পায়। ১৯৩৮ সালের জানুয়ারিতে RBI প্রথম ৫ টাকার নোট ছাপে, তারপর ১০, ১০০, ১০০০ ও ১০০০০ টাকার নোট। ১৯৪৭-এর পর ১৯৫০ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম কয়েন বের হয় - ১ পাইস, ১ আনা, ২ আনা, ১/৪, ১/২ ও ১ টাকা। ১৯৫৩ সালে নোটে হিন্দি ব্যবহার শুরু হয়।
*৫. দশমিকীকরণ ও আধুনিক রুপি*
১৯৫৭ সালে রুপিকে দশমিক পদ্ধতিতে আনা হয়: ১ রুপি = ১০০ নয়া পয়সা। ১৯৬৪ সালে নয়া শব্দ বাদ দিয়ে শুধু পয়সা রাখা হয়। ১৯৬৭-তে নোটের আকার ছোট করা হয়, ১৯৮০-তে নোটে বিজ্ঞান, কৃষি ও শিল্পের ছবি আসে। ১৯৮৭-তে ৫০০ টাকার নোট, ১৯৯৬-তে মহাত্মা গান্ধী সিরিজ চালু হয়। ১৫ জুলাই ২০১০-এ ভারতীয় রুপির নিজস্ব চিহ্ন গ্রহণ করা হয়। ৬. আজকের রুপি
আজ RBI Act 1934-এর অধীনে RBI নোট ছাপে, আর সরকার ১ টাকার নোট ও কয়েন ইস্যু করে। বাংলায় একে টাকা, ওড়িয়ায় টঙ্কা বলা হয়। প্রাচীন রূপ্য থেকে শের শাহের রুপিয়া হয়ে আজকের - ভারতীয় মুদ্রা ২৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির সাক্ষী।*ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাস: আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়*
১. কুষাণ থেকে দক্ষিণের সাম্রাজ্য: বৈচিত্র্যের যুগ
গুপ্ত যুগের পর কুষাণ রাজারা রোমান ধাঁচের সোনার দিনার চালু করেন। একই সময়ে দক্ষিণে সাতবাহনরা সীসা ও পটিনের মুদ্রা, চালুক্যরা বরাহ নামে সোনার কয়েন ছাপে। চোল ও পাণ্ড্য রাজারা মাছ, বাঘ ও ধনুকের প্রতীক দিয়ে মুদ্রা বের করত। বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্যাগোডা ছিল দক্ষিণ ভারতের অন্যতম মান্য সোনার মুদ্রা।
২. সালতানাত ও মুঘল আমলের কারিগরি
দিল্লি সালতানাতের ইলতুৎমিশ প্রথম টঙ্কা নামে বিশুদ্ধ রুপোর মুদ্রা ও জিতল নামে তামার মুদ্রা চালু করেন। মুহম্মদ বিন তুঘলক পরীক্ষামূলকভাবে পিতলের টোকেন কারেন্সি চালু করেন, কিন্তু মানুষ নকল করা শুরু করায় তা ব্যর্থ হয়। মুঘল আমলে আকবরের ইলাহি কয়েন, জাহাঙ্গীরের রাশিচক্রের ছবিওয়ালা মোহর খুব বিখ্যাত। ঔরঙ্গজেবের সময় মুঘল টাকশাল সংখ্যা বেড়ে ৪০টি হয়।
৩. দেশীয় রাজ্য ও কোম্পানির মুদ্রা
ব্রিটিশ আসার আগেও হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া সিক্কা, ত্রিবাঙ্কুরের অনন্তরায়ন পণম, বরোদার বড়োদি রুপি চালু ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে সুরাট, বোম্বে, মাদ্রাজে আলাদা আলাদা মুদ্রা ছাপত। ১৮৩৫-এর Coinage Act-এর পর উইলিয়াম-৪ এর ছবি দেওয়া ইউনিফর্ম রুপি আসে। ১৮৬২-তে রানী ভিক্টোরিয়ার ছবিওয়ালা কয়েন শুরু হয়।
৪. কাগজের নোটের বিবর্তন
১৮৬১-তে ভিক্টোরিয়ার পোর্ট্রেট সিরিজ, ১৯২৩-এ কিং জর্জ-৫ এর পোর্ট্রেট সিরিজ আসে। ১৯১৭ সালে প্রথম ১ টাকার নোট ও ২ টাকা ৮ আনার নোট ছাপা হয় যুদ্ধের খরচ মেটাতে। ১৯৪০-এ ১ টাকার নোট আবার চালু হয়। ১৯৪৩-এ কালোবাজারি রুখতে ১০০০ ও ১০০০০ টাকার নোট বন্ধ করা হয়।
৫. স্বাধীন ভারতের নোটের গল্প
১৯৪৯-এ স্বাধীন ভারতের প্রথম নোটে সারনাথের সিংহস্তম্ভ আসে। ১৯৬৯-এ গান্ধীর জন্মশতবর্ষে তাঁর ছবি প্রথম নোটে আসে। ১৯৭৮-এ মোরারজি দেশাই সরকার আবার ১০০০, ৫০০০, ১০০০০ টাকার নোট ডিমনিটাইজ করে। ১৯৮৭-তে ৫০০ টাকার নোট, ২০০০-এ ১০০০ টাকার নোট ফেরে।
৬. ২০১৬-র নোটবন্দি ও নতুন সিরিজ
৮ নভেম্বর ২০১৬-তে সরকার ৫০০ ও ১০০০ টাকার পুরনো নোট বাতিল করে। নতুন মহাত্মা গান্ধী সিরিজে ২০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০ টাকার নোট আসে। প্রতিটি নোটে স্বচ্ছ ভারত লোগো, ভিন্ন রং ও ভারতের ঐতিহ্যের ছবি - কোনার্ক চক্র, রানী কি ভাব, সাঁচী স্তূপ, মঙ্গলযান। ২০২৩-এ ২০০০ টাকার নোট প্রত্যাহার করা হয়।
৭. কয়েনের পরিবর্তন
১৯৫৭-র পর ১, ২, ৩, ৫, ১০, ২০, ২৫, ৫০ পয়সা চালু হয়। ২০১১-তে ২৫ পয়সা ও তার নিচের কয়েন বন্ধ হয়। এখন ১, ২, ৫, ১০, ২০ টাকার কয়েন চলে। দৃষ্টিহীনদের জন্য কয়েনে আলাদা শেপ ও দাগ দেওয়া হয়। ২০ টাকার নতুন কয়েন ১২-কোণা।
*৮. ডিজিটাল যুগ: UPI থেকে e*
২০১৬-তে UPI চালু হওয়ার পর ভারতীয় মুদ্রা ডিজিটাল লেনদেনে বিশ্বে এক নম্বর। ২০২২-এ RBI ডিজিটাল রুপি বা e পাইলট চালু করে। এটা ব্লকচেইন-ভিত্তিক সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি। কাগজ থেকে পিক্সেল - রুপির যাত্রা এখন ডিজিটাল।
৯. মজার তথ্য
- আনা শব্দ এসেছে সংস্কৃত অণ্ন থেকে, মানে ছোট অংশ।
- ১৯১৭-র ১ টাকার নোটে I promise to pay the bearer লেখা থাকত না, কারণ ওটা সরকার সরাসরি ইস্যু করত।
- টাকা শব্দটি সংস্কৃত টঙ্ক থেকে, যার মানে রুপোর মুদ্রা। বাংলাদেশের মুদ্রার নামও তাই টাকা।
- সবচেয়ে বেশিদিন চলা নোট: ১৯৩৮-এর ১০০ টাকার নোট, ১৯৭৮ পর্যন্ত বৈধ ছিল।
উপসংহার: পাঞ্চ-মার্কড রুপো থেকে QR কোড স্ক্যান - ভারতীয় মুদ্রা শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়, ২৬০০ বছরের অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির দলিল। রূপ্য থেকে পর্যন্ত এই বিবর্তন ভারতের আত্মনির্ভরতার গল্পই বলে।

2
415 views

Comment