? ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুঁজালি: ফুটবল বড়ই অনিশ্চিত খেলা। এখানে এক মুহূর্তের সাফল্য যেমন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এনে দেয়, তেমনই সময়ের চাকা ঘুরলে সেই সাফল্যের স্মৃতিগুলোই হয়ে ওঠে বেদনার। আজ ঠিক এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিভাবান ফুটবলার মাহরুস সিদ্দিকী নাদিম।
২০২২: সেই সোনালী অধ্যায়
আজ থেকে চার বছর আগে গুয়াহাটি ফুটবল লিগের মাঠ কাঁপিয়েছিলেন এই তরুণ রাইট-ব্যাক ও মিডফিল্ডার। রাজবাড়ি অ্যাথলেটিক ক্লাবের হয়ে তাঁর নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা তাঁকে লিগের ব্রেকআউট প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। ১৭৬ সেমি উচ্চতার এই অ্যাথলিট তাঁর গতি, ট্যাকটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং দুই পায়ে সমান দক্ষতা দিয়ে সেই মৌসুমে বিপক্ষ উইঙ্গারদের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন।
মোহনবাগান অ্যাকাডেমির ছাত্র থেকে শুরু করে মিনার্ভা অ্যাকাডেমিতে বেস্ট পারফর্মার অ্যাওয়ার্ড জেতা নাদিম যখন ২০২২ সালে গুয়াহাটিতে নিজের জাত চেনাচ্ছিলেন, তখন মনে হয়েছিল ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে তাঁর পৌঁছানো এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এমনকি ইউরোপের ক্লাব এফসি স্ট্রুগা-তে ট্রায়ালের অভিজ্ঞতাও তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েক গুণ।
২০২৬: বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা
কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই সোনালী দিনের ছবিটা অনেকটা ফিকে হয়ে এসেছে। ২০২২-এর সেই ব্রেকআউট প্লেয়ার আজ বড় কোনো ক্লাবের চুক্তির অভাবে একজন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন। যে খেলোয়াড়ের পা থেকে এখন আই-লিগ বা আইএসএল-এর ময়দানে গোল হওয়ার কথা ছিল, তাঁকে এখন দেখা যাচ্ছে তৃণমূল স্তরের অ্যাকাডেমিতে খুদে খেলোয়াড়দের মেন্টরিং করতে।
সম্প্রতি Y.S.P ফুটবল অ্যাকাডেমির কিছু প্রাকটিস সেশনে তাঁকে মেন্টর হিসেবে দেখা গেছে। যদিও তিনি অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে আগামীর ফুটবলারদের সমৃদ্ধ করছেন, কিন্তু প্রশ্ন উঠছেএকজন যোগ্য পেশাদার ফুটবলারের কি এই বয়সে কেবল মেন্টরিং করে সময় কাটানো সাজে? কেন বড় ক্লাবগুলোর নজরে নেই এই ব্রেকআউট প্রতিভা? চোটের সমস্যা নাকি সঠিক পেশাদার এজেন্টের অভাব, নাদিমের এই থমকে যাওয়ার কারণ কী?