logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

ব্যাংক কি আদালতের আদেশ ছাড়া আপনার বাড়ি বা সম্পত্তি নিতে পারে সত্যিটা জানুন....

ব্যাংক কি আদালতের আদেশ ছাড়া আপনার বাড়ি বা সম্পত্তি নিতে পারে সত্যিটা জানুন
নিজস্ব সংবাদদাতা | কলকাতা হাইকোর্ট- অনেক মানুষ মনে করেন যে ব্যাংকের লোন শোধ করতে না পারলেই ব্যাংক সরাসরি বাড়ি বা সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। ভারতে ব্যাংকের কাছে কিছু বিশেষ আইনগত ক্ষমতা রয়েছে, তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া না মেনে ব্যাংক কারও বাড়ি বা সম্পত্তি দখল করতে পারে না।

ভারতে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান সাধারণত ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য যে আইনের আশ্রয় নেয় তা হলো Securitisation and Reconstruction of Financial Assets and Enforcement of Security Interest Act, 2002। এই আইনের Section 13 অনুযায়ী যদি কোনো ঋণগ্রহীতা দীর্ঘদিন EMI পরিশোধ না করেন এবং সেই ঋণ Non Performing Asset হিসেবে ঘোষিত হয়, তখন ব্যাংক প্রথমে একটি নোটিস দেয় এবং ঋণগ্রহীতাকে সাধারণত ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয় বকেয়া পরিশোধ করার জন্য। এই সময়ের মধ্যে ঋণগ্রহীতা টাকা পরিশোধ করলে বা আপত্তি জানালে ব্যাংককে সেই আপত্তি বিবেচনা করতে হয়।

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তখন Section 13 এর অধীনে ব্যাংক কিছু ব্যবস্থা নিতে পারে যেমন সম্পত্তি দখলের প্রক্রিয়া শুরু করা বা নিলামের প্রস্তুতি নেওয়া। তবে বাস্তবে সম্পত্তির দখল নেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ব্যাংককে ম্যাজিস্ট্রেটের সাহায্য নিতে হয়। Section 14 অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে সম্পত্তি দখলের অনুমতি নেওয়া হয় এবং প্রশাসনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এই বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট করেছে যে ব্যাংকের এই ক্ষমতা থাকলেও তা আইন অনুযায়ী সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। Mardia Chemicals Ltd v Union of India 2004 Supreme Court case মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে ঋণগ্রহীতার অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাংকের পদক্ষেপ আইনসম্মত হতে হবে। আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে ঋণগ্রহীতার জন্য আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে Harshad Govardhan Sondagar v International Assets Reconstruction Company Ltd Supreme Court case 2014 সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা করেছে যে ব্যাংক যখন কোনো সম্পত্তি দখলের পদক্ষেপ নেয় তখন সেই প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো বৈধ অধিকার থাকলে সেটিও বিবেচনা করতে হবে এবং আইনগত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

সুতরাং বাস্তব অবস্থান হলো ব্যাংক আদালতের ডিক্রি ছাড়া সরাসরি আপনার সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারে না। তবে বিশেষ ব্যাংকিং আইনের অধীনে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পত্তি দখল করা যেতে পারে। তাই কেউ যদি মনে করেন যে ব্যাংক আইন না মেনে তার সম্পত্তি নেওয়ার চেষ্টা করছে তাহলে তিনি আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন এবং উপযুক্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক আইনি পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক সময় ঋণগ্রহীতার আইনি অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইন জানলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান সম্ভব কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ২০ লক্ষ টাকার কম আদায়ে নেওয়া যাবে না কোনও কঠোর পদক্ষেপ।
জমি বা বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। এমনই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র।
বিচারকের স্পষ্ট নির্দেশ, ঋণের টাকা আদায়ের জন্য,ঋণদানকারী সংস্থাকে প্রয়োজনে আদালতেরই দ্বারস্থ হতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংক নয়,নন ব্যাঙ্কিং ( NBFC ) ক্ষেত্রে এই রায় বিশেষ করে প্রযোজ্য। হাইকোর্ট এর অনুমতি ছাড়া কোনো রকম আগাম পদক্ষেপ করা বাঞ্ছনীয় নয়,এরকম রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট এর বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র।

7
388 views

Comment