logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

ভাল-কে ভাল বলতেই হবে... তাতে যদি কেউ চটিচাটা বলে অসুবিধা নেই।বামফ্রন্টের ছাত্রনেতা হিসেবে আমি ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে যেভাবে দেখেছি ২০০৭ সাল থেকে...

বামফ্রন্টের ছাত্রনেতা হিসেবে আমি ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে যেভাবে দেখেছি ২০০৭ সাল থেকে...

প্রায় ১৮ বছর ধরে মানুষটাকে চিনি। প্রথম চার বছর সময়ের মধ্যে খুব কাছ থেকে দেখেছি—রাজনীতি যেমন, তেমনই মানুষ হিসেবেও। তাই ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে কিছু কথা নিজের ভালোবাসা থেকেই বলছি।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিশেষ ছাত্রনেতা হিসেবে একসময় যার পরিচিতি ছিল, সেই ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন কত অরাজনৈতিক জনসাধারণকে—বিশেষ করে ক্যান্সার বা অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের—চিকিৎসার জন্য সাহায্য করেছে, সেটা হয়তো সবাই জানে না। কিন্তু আমার কিছুটা হলেও অজানা নয়।

নিজের সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছে। আমি নিজেই বহু মানুষের জন্য ঋতব্রতর কাছে পাঠিয়েছি। আমার অভিজ্ঞতা—কাউকে ফেরায়নি।

সময়টা ঠিক ২০১৭। রাজ্যসভার অন্যতম সক্রিয় ও সফল সাংসদ হিসেবে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের নাম যখন সংবাদের শিরোনামে বারবার উঠে আসছে। ঠিক সেই সময়েই, তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এক নেতা ও তার পুরো টিম চক্রান্ত শুরু করল। একদিকে নিজের দল অন্যদিকে সিআইডি...

শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত জীবনকে কেচ্ছা বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একজন সাংসদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা ছাড়া আর খুব বেশি কিছু করতে পারেনি চক্রান্তকারীরা।

কিন্তু লড়াই থামেনি…
বাকিটা এখন ইতিহাস।

রাজনীতিতে এটা যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সৌজন্যবোধ প্রায় উঠেই গেছে। অশিক্ষা বারবার প্রলয়ের মতো ধেয়ে আসছে রাজনীতির বুকে।

নির্দল হয়েই ঋতব্রত সেইবার রাজ্যসভার সম্পূর্ণ টার্ম শেষ করলো।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কতজনের পোস্ট রিট্যুইট করেছেন সেটা আমারও জানা নেই। তবে এটুকু জানি— ঋতব্রতর রাজ্যসভার একটি বক্তব্যের পোস্ট তিনি রিট্যুইট করেছিলেন, তখনও ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দেয়নি।

তার অনেক পরে তৃণমূলে যোগদান।

এছাড়া ওনার বিকল্প কোন পথ খোলা ছিল না। বামপন্থী রাজনৈতিক কেরিয়ার তখন দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে।

তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনকে মজবুত করার কাজ। আরও পরে কিছুদিনের জন্য আবার রাজ্যসভার সাংসদ।

তারই হয়তো পুরস্কার এবারে বিধানসভার প্রার্থী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই ধরনের শিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আগামী দিনে হয়তো সাধারণ মানুষের এবং রাজ্যের কথা নিঃস্বার্থ ভাবে প্রকাশ করবেন দেশের মানুষের কাছে। আমরা আশা রাখি বর্তমান রাজনৈতিক লজ্জাকে কর্ণপাত না করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, সাধারণ মানুষের পাশে থেকেই উনি ওনার রাজনৈতিক জীবন শেষ করবেন আগামী দিনে।

আগামী বিধানসভা কে পাখির চোখ রেখে এবার উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

আমার বিশ্বাস, এই কেন্দ্রে ঋতব্রত রেকর্ড মার্জিনে জয়ী হবে। এটাও মনে হয়—সে হয়তো মন্ত্রীও হবে। তবে যেটাই হোক, সেটা শেষ পর্যন্ত মানুষের কাজেই লাগবে।

এই লেখা পড়ে অনেকে হয়তো ট্রল করবেন। কেউ বলবেন আমিও চাটিচাটা, কেউ বলবেন টাকা খেয়ে লিখছি। বলতেই পারেন—মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। সমালোচনা থাকবে, পছন্দ-অপছন্দও থাকবে। কিন্তু বাস্তবকে অস্বীকার করা যায় না।মানবিকতার দিক তো আছে সঙ্গে যেটা আছে সেটা অসম্ভব ব্যক্তি কেন্দ্রিক পড়াশুনা। এইরকম শিক্ষিত নেতার বড্ড প্রয়োজন এই জ্বরাগ্রস্ত রাজনীতির সময়ে।

এই মানুষগুলোর ব্যাক্তিজীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া না করে যে কারনে তাঁদের মানুষ চেনে সেই কারনটাকেই সামনে রাখা উচিত। ভাল-কে ভাল বলতেই হবে... তাতে যদি কেউ চটিচাটা বলে অসুবিধা নেই।
Ritabrata Banerjee
@followers

9
1185 views

Comment