অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক আমার ছাত্র জীবনের বন্ধু। ১৯৯৬ সালে প্রথম পরিচয়। "স্বপ্নসন্ধানীতে" গ্রুপ থিয়েটার করার সৌজন্যে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ১৮ই মার্চ ২০২৬- রাজনীতিটা যে সবার জন্য নয়, এটা হয়তো আজকের দিনে বুঝে গেছেন সবাই। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ থেকে পথ চলতি সেলিব্রেটিরা। রাজনীতি হলো শেষ জীবনের হিসেব-নিকেশ। অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক আমার ছাত্র জীবনের বন্ধু। ১৯৯৬ সালে প্রথম পরিচয়। "স্বপ্নসন্ধানীতে" গ্রুপ থিয়েটার করার সৌজন্যে। প্রথমদিকে অভিনয় করতে গেলে বিভিন্ন রকম আনুষাঙ্গিক কাজকর্ম করতে হয়, তার থেকে বাদ যায় না কেউ। আমিও তার বিকল্প ছিলাম না। রাস্তার চায়ের দোকান থেকে সবার জন্য চা আনতে গিয়ে একদিন কেঁদে ফেলেছিলাম, তখনই কাঞ্চন এসে আমার পিঠ চাপরে বললো এটাই স্বাভাবিক, গ্রুপে থাকতে গেলে এভাবেই চলতে হয়, ব্যাকস্টেজ থেকে শুরু। যদিও পরবর্তীকালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং কৌশিক সেনের প্রযোজনা "টিকটিকির" ব্যাকস্টেজ করার দায়িত্বে ছিলাম কাঞ্চন এবং আমি সহ অনেকেই। তখনো ও পারদর্শী অভিনেতা হিসাবে সেরকম পরিচিতি ছিল না। কলিকাতার শরৎ বোস রোডের একটা বিখ্যাত পার্লার (যেখানে মানুষ চুল দাড়ি এবং নিজের গ্রুমিং করে এবং বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পিঠস্থান) সেখানে ও কর্মরত ছিল। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদ মাধ্যমে এটা প্রকাশিত করতে ও লজ্জাবোধ করত না। এটাই ওর মহৎ গুণের সংজ্ঞা। বহু কষ্ট করে এবং নিজের প্রতিভাকে মানুষের সামনে নিয়ে এসে, আজ সিনেমার পর্দায় এবং নাটকের মঞ্চে প্রচলিত নাম "কাঞ্চন মল্লিক", পরবর্তী ক্ষেত্রে নিজের পারিবারিক সম্পর্কে জর্জরিত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে আসেন। আসল বিষয়টা হল, খুব কষ্টের সংসার ছিল "কাঞ্চনের"- মা এবং ছেলের যৌথ সংসার। আজকের দিনে পারিবারিক পরিচিতি ছাড়া কোন মানুষকে সমাজের শীর্ষে উঠতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। তার বিকল্প ছিল না কাঞ্চন মল্লিক।
পরবর্তীকালে "হরিশ মুখার্জী" রোডে থাকার সৌজন্যে "মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর" সাথে পরিচয় এবং উত্তরপাড়া বিধানসভার নির্বাচিত প্রতিনিধি।
বিভিন্ন গোলযোগে হয়তো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকার দরুন সংবাদপত্রের শিরোনামে ছিল সব সময় (কখনো চশমা কেলেঙ্কারি, কখনো বা হসপিটালের বিল) কোনোটা থেকেই বাদ যায়নি। সেই কারণেই হয়তো ২০২৬-এ নির্বাচনের তালিকায় উত্তরপাড়া বিধানসভা থেকে কাঞ্চন মল্লিকের নামটা মুছে ফেলা হলো। এটাই রাজনীতি। এখন দেখার বিষয় উনি কি করেন! সত্যিই কি রাজনীতির সাথে নিজেকে যুক্ত রাখবেন, না সাধারণ মানুষকে নিজের "কমেডির" মাধ্যমে উৎসাহিত করবেন। সম্পূর্ণটা তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা। নিজের যতই কলঙ্ক থাকুক, আমরা সবাই কাঞ্চন মল্লিকের হাসি টুকু দেখতে চাই, এটাই সাধারণ মানুষের চাহিদা।