logo

একটা প্রশ্ন এখন সবার মনে—জনগণের হাতে সরাসরি জবাবদিহির এই ধারণা কি সত্যিই গণতন্ত্রকে আরও শক্ত ভিত দেবে?

কখনও কি মনে হয়েছে, ভোট দেওয়ার পর নাগরিক হিসেবে আমাদের ভূমিকা যেন থেমে যায়? পাঁচ বছর অপেক্ষা… তারপর আবার নতুন সিদ্ধান্ত। এই দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই যদি প্রশ্ন ওঠে—যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি কি সত্যিই সেই দায়িত্ব পালন করছেন?

এই ভাবনাকেই কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের আইনসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সামনে এসেছে। আলোচনা হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থার, যেখানে জনগণের মতামত শুধু নির্বাচনের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—প্রয়োজনে মাঝপথেও তা কার্যকর হতে পারে।

প্রস্তাবের মূল ভাবনা সহজ। যদি কোনো জনপ্রতিনিধি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করেন, বা মানুষের আস্থা হারান, তাহলে নাগরিকদের হাতে থাকবে তাকে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণের সুযোগ।

অর্থাৎ গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, সেই ভোটের জবাবদিহিও নিশ্চিত করার পথ খুঁজছে। অনেকেই বলছেন, এতে প্রতিনিধিত্বের সম্পর্ক আরও জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে—কারণ ক্ষমতা মানে তখন শুধু পদ নয়, প্রতিদিনের দায়িত্বও।

এই ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই স্বাভাবিকভাবেই নানা মত উঠে আসছে। কেউ মনে করছেন, এতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হবে। আবার কেউ বলছেন, প্রক্রিয়াটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

কারণ আইন শুধু লেখা থাকলেই হয় না—তার কার্যকারিতা নির্ভর করে বাস্তব ব্যবস্থার ওপর। কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কতজনের মতামত প্রয়োজন হবে, অপব্যবহার ঠেকানো যাবে কি না—এই সব দিকও গুরুত্বপূর্ণ।

তবু একটা বিষয় স্পষ্ট—নাগরিক অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। গণতন্ত্রকে আরও সক্রিয়, আরও প্রত্যক্ষ করার ভাবনা যেন ধীরে ধীরে সামনে আসছে।

এমন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়া মানেই সমাজ ভাবছে, প্রশ্ন করছে, নিজের অধিকার নিয়ে সচেতন হচ্ছে। আর সচেতনতা গণতন্ত্রের প্রাণ—এ কথা নতুন নয়, কিন্তু আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

এই পুরো বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে জুড়ে। সংসদ থেকে সাধারণ চায়ের দোকান—সবখানেই চলছে মতামত, বিশ্লেষণ, বিতর্ক।

শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব আইন হবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু একটা প্রশ্ন এখন সবার মনে—জনগণের হাতে সরাসরি জবাবদিহির এই ধারণা কি সত্যিই গণতন্ত্রকে আরও শক্ত ভিত দেবে?

আপনার কী মনে হয়?

7
493 views