
বিভ্রান্তি নয়, ইসলামের মর্যাদা রক্ষাই ছিল উদ্দেশ্য: নূর হোসেন
বিভ্রান্তি নয়, ইসলামের মর্যাদা রক্ষাই ছিল উদ্দেশ্য: নূর হোসেন
ট্যানটু, হাইলাকান্দি (আসাম), বিশেষ প্রতিবেদন
ট্যানটু, হাইলাকান্দি এলাকার একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার ঘটনায় ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়েছেন মণিপুরের জিরিবামের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী নূর হোসেন। তিনি দাবি করেন, তার উদ্দেশ্য কখনোই কোনো পীর সাহেব বা আলেমের অবমাননা করা ছিল না; বরং ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আসামের হাইলাকান্দি জেলার ট্যানটু এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি উরুস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পীর সাহেবের বাড়ির সামনে বহু মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং হাতে বোতলজাত পানি বা তেল নিয়ে অপেক্ষা করছেন। ভিডিওতে পীর সাহেবকে উপস্থিত ব্যক্তিদের ফুল বিতরণ করতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি প্রথমে অন্য একজন ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
নূর হোসেন জানান, তিনি ওই ভিডিওটি শেয়ার করেন এবং ক্যাপশনে কয়েকটি মন্তব্য লেখেন। তার দাবি, তিনি ইসলামকে নিয়ে কোনো ধরনের তামাশা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কিছু লেখেননি। বরং সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশা ও ট্রল করা হয়, সে বিষয়ে আলেম সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি শেয়ার করার পর কিছু মানুষ তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এবং তাকে পীর সাহেবের অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এরপর মণিপুর রাজ্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পক্ষ থেকে তাকে একটি নোটিশ পাঠানো হয় এবং ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য উপস্থিত হতে বলা হয়।
নূর হোসেন জানান, তিনি নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। কিন্তু তার অভিযোগ, সেখানে তার কথা পুরোপুরি শোনা হয়নি এবং বিষয়টি একতরফাভাবে বিচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি একা ছিলাম, আর সামনে ছিল একটি কমিটি। আমার উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করা হয়নি।”
নিজেকে একজন সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নূর হোসেন বলেন, তিনি অল ইন্ডিয়া মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের একজন সক্রিয় সদস্য। পাশাপাশি তিনি মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করেন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া তিনি একজন প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন এবং সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি ইসলামের বিরুদ্ধে কখনো কথা বলিনি। বরং ইসলামের সম্মান রক্ষার জন্যই আমার বক্তব্য ছিল। কিন্তু ভিডিওর কিছু মন্তব্য এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ব্যাখ্যার কারণে মানুষ আমার উদ্দেশ্য ভুলভাবে বুঝেছে।”
নূর হোসেনের দাবি, বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা ধরনের ট্রল ও বিদ্রূপ চলছে, যা তার জন্য মানসিকভাবে কষ্টকর। তিনি চান, মানুষ তার বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝুক এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করুক।
শেষে তিনি বলেন, “আমি চাই, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আমরা সবাই আরও সচেতন হই। ইসলামের নামে এমন কোনো কাজ যেন না হয়, যা ধর্মের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে বা মানুষকে হাসির সুযোগ দেয়।”