logo

বদরপুরের খতমে বুখারী অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হল নদওয়ার মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান মাঝারভুইয়াকে

উত্তর-পূর্ব ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ (khatm e bukhari) খতমে বুখারী শরীফ অনুষ্ঠান। এই বিশাল ও ঐতিহাসিক সমাবেশে উত্তর-পূর্ব ভারতের একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, দু’বারের নির্বাচিত অসম বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক, সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন, প্রজ্ঞাবান নেতা, সমাজসংস্কারক ও মানবসেবী হযরত মাওলানা আতাউর রহমান মাঝারভূইয়া সাহেব-কে প্রদান করা হয় “Dynamic Community Leader of North East India Award”।

এই সম্মাননা তাঁর হাতে তুলে দেন অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি, বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও দূরদর্শী অভিভাবক হযরত মাওলানা আনিসুর রহমান কাসেমী সাহেব (দা.বা.)। একজন সর্বভারতীয় নেতৃত্বের অধিকারী আন্তর্জাতিক মানের আলেমের হাত থেকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান নিঃসন্দেহে এর মর্যাদা ও গুরুত্বকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।

হযরত মাওলানা আতাউর রহমান মাযহারভূঁইয়া সাহেব এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবনে রাজনীতি, সমাজ, শিক্ষা ও মানবসেবা কখনো বিচ্ছিন্ন কোনও অধ্যায় নয়।বরং সবকিছু একসূত্রে গাঁথা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন।

তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের অন্যতম সদস্য, অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিলের সদস্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র নিয়মিত মাসিক দ্বীনি পত্রিকা “নেদায়ে দীন”-এর প্রায় চার দশকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং বর্তমানে এমারতে শরিয়াহ-এর মহাসচিব হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের উচ্চস্তরের নেতা হলেও বাস্তবে তিনি দল-মত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে একজন সর্বজনগ্রাহ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।

ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে তাঁর হাজার হাজার শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রয়েছেন। সংকটের মুহূর্তে আজও মানুষ তাঁর নামেই ভরসা খোঁজে।

বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা করোনার মতো ভয়াবহ সময়ে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে নেতৃত্ব মানে কেবল বক্তৃতা বা মঞ্চের আলো নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব নেওয়া। তাঁর নেতৃত্বে এমারতে শরিয়াহর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ অসহায় ও বিপন্ন মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বিপদের সময় তিনি নিজেই সামনে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করেছেন।

তিনি একজন আন্তর্জাতিক মানের বক্তা, তথ্যভিত্তিক ও যুক্তিনির্ভর আলোচক, বিদগ্ধ ইসলামী চিন্তাবিদ ও প্রথিতযশা লেখক। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে থাকে গভীর জ্ঞান, বাস্তবতা ও প্রজ্ঞার অপূর্ব সমন্বয়। তিনি যখন বক্তব্য রাখেন, তখন হাজার হাজার মানুষের বিশাল সমাবেশেও নেমে আসে গভীর নীরবতা। কারণ তিনি কথা বলেন দায়িত্ব নিয়ে, যুক্তি ও প্রমাণের আলোকে। তাঁর প্রতিটি বক্তব্য মানুষকে ভাবতে শেখায়, আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধ করে এবং কাজে অনুপ্রেরণা জোগায়।

হযরত মাওলানা আতাউর রহমান মাযহারভূঁইয়া সাহেব শুধু একটি নাম নন, তিনি এক চলমান প্রতিষ্ঠান, এক নবজাগরণের প্রতীক। সহজ-সরল প্রাঞ্জল বাংলায় তাঁর বক্তব্য যেমন মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে, তেমনি সিলেটি ভাষায় তাঁর কথায় থাকে এক অনন্য মাধুর্য ও আবেগ, যা শ্রোতাদের মন জয় করে নেয়। যেকোনো মাসআলা-মাসায়েল বা জটিল প্রশ্নের উত্তর তিনি এমন সাবলীলভাবে দেন, যেন সবকিছু তাঁর সামনে সাজানো রয়েছে। গভীর জ্ঞান, স্মরণশক্তি ও উপস্থিত বুদ্ধির এক অনন্য সমন্বয় তাঁর ব্যক্তিত্বকে করেছে আরও উজ্জ্বল।

তিনি একজন শায়খুল হাদিস, যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন, সফল নেতা, দক্ষ সংগঠক, যোগ্য প্রশাসক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দশ বছর বিধায়ক থাকাকালে তিনি কাটিগড়া বিধানসভা নির্বাচনী এলাকাকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। উন্নয়ন, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক ভারসাম্যে তাঁর অবদান আজও মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। সত্যিকারের মানবপ্রেমী হিসেবে মানুষের দুঃখ-কষ্টে তিনি কখনো অনুপস্থিত ছিলেন না।

এই সব কিছুর পরিপ্রেক্ষিতেই “Dynamic Community Leader of North East India Award” তাঁর জন্য কেবল একটি সম্মাননা নয়; বরং এটি তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানবসেবা এবং উম্মাহর প্রতি নিঃস্বার্থ খেদমতের এক প্রাপ্য ও মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।

এই ঐতিহাসিক দিনটি আরও মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে, কারণ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে এমন এক সমাবেশে যেখানে সভাপতিত্ব করছেন আমিরে শরীয়ত হযরত মাওলানা ইউসুফ আলী সাহেব (দা.বা.) এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন হযরত মাওলানা আনিসুর রহমান কাসেমী সাহেব (দা.বা.)।

4
3336 views
1 comment