logo

জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ, পূরণ হলো জলপাইগুড়িবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি

আজ ১৭ই জানুয়ারি জলপাইগুড়িবাসীর কাছে এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে জলপাইগুড়ি রোড রেল স্টেশনে ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ কার্যকর হলো। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া বইছে গোটা জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলেই এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনকে ভারতীয় রেলের একটি যুগান্তকারী সংযোজন বলা হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এই ট্রেন বিশেষভাবে পরিচিত। রাতের যাত্রার উপযোগী এই স্লিপার সংস্করণ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে এর স্টপেজ চালু হওয়ায় দিল্লি, মুম্বইসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ জলপাইগুড়ির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। উন্নত রেল যোগাযোগের ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় শহরের হাসপাতালে যাতায়াতও অনেক কম সময়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

পর্যটনের দিক থেকেও জলপাইগুড়ি জেলার গুরুত্ব আরও বাড়বে। ডুয়ার্স, গরুমারা, জলদাপাড়া, বক্সা সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের মাধ্যমে পর্যটকরা কম সময়ে আরামদায়কভাবে উত্তরবঙ্গে পৌঁছাতে পারবেন, যা পর্যটন শিল্পের প্রসারে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি শুধু একটি ট্রেনের স্টপেজ নয়, বরং জলপাইগুড়ির সার্বিক উন্নয়নের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। বহুদিন ধরেই এই স্টপেজের দাবি জানিয়ে আসছিলেন মানুষ। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় কেন্দ্রীয় রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, আজকের এই সিদ্ধান্ত জলপাইগুড়ির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলেই আশাবাদী জলপাইগুড়িবাসী।

2
404 views