
জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আজ উত্তরবঙ্গের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। জলপাইগুড়িতে Calcutta High Court-এর Circuit Bench–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উদ্যোগের ফলে উত্তরবঙ্গের বহু জেলার মানুষ দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বিচারিক সুবিধা আরও সহজে পেতে চলেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সহজ করতেই এই সার্কিট বেঞ্চ চালু করা হলো। এতদিন উত্তরবঙ্গের বহু মামলার শুনানির জন্য সাধারণ মানুষকে কলকাতা পর্যন্ত যেতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ চালু হওয়ায় সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।
এই সার্কিট বেঞ্চের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদার মতো জেলার মামলাগুলি নির্দিষ্ট সময়ে এখানেই শুনানি হতে পারবে। ফলে সাধারণ মানুষ, আইনজীবী ও মামলাসংশ্লিষ্ট সকলের জন্যই এটি বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, রাজ্য সরকার সবসময় মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থাকেও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ চালু হওয়া সেই লক্ষ্যপূরণেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক, বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধিরা, আইনজীবী মহল ও বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তাঁরা সকলেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি আজ বাস্তবায়িত হলো।
আইনজীবী মহলের মতে, সার্কিট বেঞ্চ চালু হওয়ায় মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং বিচার ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের উপর মামলার চাপও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এটি স্থায়ী বেঞ্চ না হলেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতিরা জলপাইগুড়িতে এসে মামলার শুনানি করবেন। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সার্বিকভাবে বলা যায়, জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন উত্তরবঙ্গের বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও সহজ ও দ্রুত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।